বাংলা নিউজ.:::. জীবনে কতোবার ভোট দিয়েছেন তাও ভুলে গেছেন
বৃদ্ধা হামিদা। বয়সের ভারে ন্যূব্জ হামিদা খানম ছেলের কোলে চড়ে
ভোটকেন্দ্রে এসে এবারো ইভিএমে ভোট দিয়েছেন। ছেলে সমাজসেবী এহসানুল হক
তাহের তার মাকে কোলে করে নিয়ে ভোটকেন্দ্রে এসেছেন। কোলে চড়ে ভোট দিয়ে বেরও
হলেন হামিদা খানম।শনিবার দুপুরে হামিদা খানমকে লাইন না দাঁড়িয়েই ভোট প্রদানের অনুমতি দিয়েছেন প্রিজাইডিং অফিসার। ফলে তেমন সমস্যায় পড়তে হয়নি এই বৃদ্ধাকে।
কিন্তু নগরীর বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, বৃদ্ধ-বৃদ্ধা ভোটারদেরও নবীনদের সঙ্গে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। একটু স্বস্তি ও আরামে বসে অপেক্ষা করার ব্যবস্থা নেই কোনো কেন্দ্রে।
সকাল থেকে চলছে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। উৎসবমুখর এবং শান্তিপূর্ণভাবে ভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে সিটি করপোরেশনের ২৭টি ওয়ার্ডে।
বেলা ১১টায় মির্জা জাঙ্গাল ও রসময় মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, স্বতঃস্ফূর্ত ও শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ চললেও বৃদ্ধ ও বৃদ্ধা ভোটাররা পড়েছেন মুশকিলে।
বয়সের ভারে অনেকেরই দাঁড়ানোর মতো শক্তি নেই। কিন্তু ভোটকেন্দ্রগুলোতে বসে থাকার মত কোনো বেঞ্চ বা অন্য কোনো ব্যবস্থা না থাকায় কষ্ট হচ্ছে তাদের।
রসময় মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ে ইভিএমের মাধ্যমে ভোট দিয়ে বেরিয়ে প্রশান্তির নিশ্বাস ছেড়েছেন বৃদ্ধা হামিদা। বাংলানিউজকে তিনি বলেন, “ভালো লাগছে ভোট দিলাম। টিপ দিয়ে ভোট খুব ভালো হলো। এ কেন্দ্রে ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে।”
তার ছেলে জল্লারপাড়ের বাসিন্দা এহসানুল হক তাহের জানান, গত দুই সিটি নির্বাচনেও তার মাকে তিনি কোলে করে নিয়ে এসে ভোট দিয়েছেন। এবার মায়ের কথা অনুযায়ী ইভিএম মেশিনের বোতামে চাপ দিয়েছেন তিনি।
বেলা সাড়ে এগারোটায় কথা হয় মির্জা জাঙ্গাল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে মনিপুর রাজবাড়ি এলাকার ভোটার উষা রানী সিনহার সঙ্গে। প্রায় ২০ মিনিট ধরে লাইনের শেষ দিকে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন তিনি। এখনো সামনে রয়েছেন আরো ১৫ থেকে ১৬ জন ভোটার। একটু বসার ব্যবস্থা থাকলে ভালো হতো বলে জানান তিনি।
তালতলা গণি ম্যানশনের বৃদ্ধা ভোটার রেজিয়াও জানান তার কষ্টের কথা। প্রায় আধ ঘণ্টা দাঁড়িয়েও এখনো ভোট দিতে পারেননি তিনি।
কেন্দ্রের ১নং কক্ষে মনিপুরা রাজবাড়ির বৃদ্ধা ভোটার মিনতি দেবী, শিখা দেবীও সরকারের কাছে আরেকটু সহযোগিতা চেয়েছেন ভোট প্রদানের জন্যে। তারা বলেন, “এই গরমে এতোক্ষণ ধরে দাঁড়িয়ে থেকেও ভোট প্রদান করতে পারিনি। একটু বসার জায়গা হলে ভালো হতো।”
স্কুলে বেঞ্চের অভাব নেই। কয়েকটি বেঞ্চ বয়স্ক ভোটারদের অপেক্ষার জন্যে দেওয়া হলে তা ভালো হতো বলেও মত দেন তারা। বয়স্কদের জন্য আলাদা বুথের কথাও বলেন এই দুই বৃদ্ধা।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন