M

<< WELLCOME TO DASAR KHOBOR >> পাকিস্তানের নারীদের দেয়া হচ্ছে যৌন শিক্ষা >> সাভারে পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে একজন নিহত >> মিয়ানমারে প্রধানমন্ত্রীকে লাল গালিচা সংবর্ধনা >> মিরপুরে মিল্কভিটা বস্তিতে আগুন >> ভারতকে হারিয়ে ফাইনালের পথে পাকিস্তান>> দৌলতপুরে সরকারী গাছ কেটে আত্মসাতের চেষ্টা করেছে সরকারী দলের নেতা >>রাহুল গান্ধীকে চুমু খাওয়ায় স্ত্রীকে পুড়িয়ে হত্যা >> মেহেরপুরের পাঁচ গুণীজনকে সম্মাননা প্রদান >> পুনরায় নির্বাচনের দাবিতে কক্সবাজারে হরতাল চলছে >> এশিয়া কাপে আজ যুদ্ধ ভারত ও পাকিস্তানের >> পলাতক ২ জঙ্গি ধরতে গাইবান্ধায় গোয়েন্দাজাল >> সেনাবাহিনী নামছে ৫৯ জেলায় >> বাংলাদেশকে হুঁশিয়ারি দিল আল কায়েদা!>>

শনিবার, ১৫ জুন, ২০১৩

খুলনায় ইভিএম, ভোট হচ্ছে নির্বিঘ্নে

খুলনায় ইভিএম, ভোট হচ্ছে নির্বিঘ্নে খুলনা থেকে: খুলনার খালিশপুরের ক্রিসেন্ট জুট মিল এলাকার ৮ নং ওয়ার্ডের ৫টি কেন্দ্রে ইভিএম (ইলেক্ট্রনিক্স ভোটিং মেশিন) পদ্ধতিতে ভোটগ্রহণ চলছে। এ পদ্ধতিতে প্রথমবারের মত ভোটদানকারীরা বাংলানিউজকে জানিয়েছেন ইভিএমে ভোট দিতে তাদের কোনও সমস্যা হচ্ছে না।


ক্রিসেন্ট আলিম মাদ্রাসা কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার মহসিন মিয়ার কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বাংলানিউজকে বলেন, “ভোটগ্রহণ মোটামুটি শান্তিপূর্ণভাবেই হচ্ছে। ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট দিতে ভোটারদের তেমন কোনও সমস্যা হচ্ছে না। কেউ কেউ সামান্য কিছু ভুল করছে, তবে সেটা আমরা বুঝিয়ে দিচ্ছি।”

নির্বাচনের আগে দুই দিন ‘মক’ (অনুশীলন) ভোটিং প্রশিক্ষণ হয়েছে বলেও জানান তিনি।

ভোট দিয়ে যাওয়ার সময় মুকুল বেগম, গোলাপী রানি রায়, সামি আক্তারসহ কয়েকজন মহিলার কাছে ইভিএমের ভোটিং পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তারা বলেন, “কম্পিউটারে ভোট দিয়েছি। কোনও সমস্যা হয়নি।”

আগে প্রশিক্ষণে এসেছিলেন কি-না জানতে চাইলে তাদের দুইজন বলেন, প্রশিক্ষণে আসতে না পারলেও তাদের কোনো সমস্যা হয়নি। তবে গোলাপী বেগম রানি মক প্রশিক্ষণে এসেছিলেন বলে জানান।

এই কেন্দ্রের মোট ১৩৬৬ ভোটের মধ্যে সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত ৪০৬ জন ভোট দিয়েছেন বলে জানান প্রিজাইডিং অফিসার।

বিভিন্ন কেন্দ্রের মধ্যে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দেওয়ার জন্য অপেক্ষা করছে ভোটাররা। সময় বাড়ার সাথে সাথে ভোটারদের উপস্থিতিও বাড়ছে।

এই কেন্দ্রে পরিদর্শনে এসেছিলেন জাতীয় পার্টি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মধু। কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “আমি ১০টির বেশি কেন্দ্র ঘুরেছি। উপস্থিতি কোথাও কোথাও একটু ভাল, আবার কোথাও একটু কম মনে হয়েছে। তবে শতকরা ৬০ শতাংশ ভোট কাস্ট হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।”

নির্বাচনের পরিবেশ কেমন জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, “ভাল পরিবেশেই ভোট হচ্ছে, এখনও পর্যন্ত সুষ্ঠুই হচ্ছে।”

ফলাফল যাই হোক মেনে নেবেন কি-না জানতে চাইলে মধু বলেন, “আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রেখেছি। নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনও কথা বলা যায় না।”

ক্রিসেন্ট মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র পরিদর্শন করেন রিটার্নিং অফিসার মোস্তফা ফারুক। বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন,“ আমি সকাল থেকে ২৮টি কেন্দ্র পরিদর্শন করেছি। কোথাও কোনও অভিযোগ পাইনি। এখনও পর্যন্ত পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রয়েছে। অবাধ সুষ্ঠু পরিবেশে মানুষ ভোট দিচ্ছে। এটা আমরা নিশ্চিত করতে পেরেছি। এর কোনও ব্যতয় ঘটেনি।”

সকালে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী মনি ঝুঁকিপূর্ণ ২০৬টি কেন্দ্রের পরিস্থিতি সহ বেশ কিছু অভিযোগ তুলে ধরেন মিডিয়ার কাছে। এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে রিটার্নিং অফিসার বলেন, “তিনি তো আমাকে কোনও অভিযোগ দেননি। তার সাথে আমার কিছুক্ষণ আগেও দেখা হয়েছে, কথা হয়েছে।”

উল্লেখ্য, শনিবার সকাল আটটা থেকে শুরু হয়েছে কেসিসি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। ১৬ লাখ জনগণ অধ্যুষিত খুলনা সিটি করপোরেশনের এবারের নির্বাচনে ভোটার মোট  ৪ লাখ ৪০ হাজার ৫৬৬ জন। তাদের মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ২৪ হাজার ৫০৪ জন এবং নারী ভোটার ২ লাখ ১৬ হাজার ৬২ জন।

নির্বাচনে মেয়র পদে তিনজন,  সংরক্ষিত ১০টি মহিলা আসনে ৪৫ জন ও ৩১টি সাধারণ ওয়ার্ডে ১৩৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আ’লীগ সমর্থিত সম্মিলিত নাগরিক কমিটির প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক (প্রতীক তালা), বিএনপি সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ নাগরিক ফোরামের মেয়র প্রার্থী মনিরুজ্জামান মনি (প্রতীক আনারস) এবং জাতীয় পার্টি সমর্থিত খুলনা নাগরিক উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির শফিকুল ইসলাম মধু (প্রতীক দোয়াত-কলম)। 

নির্বাচনে ২৮৮ জন প্রিজাইডিং অফিসার, এক হাজার ৪২৮ জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার এবং দুই হাজার ৮৫৬ জন পোলিং অফিসার দায়িত্ব পালন করছেন।

শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই ৠাব, পুলিশ, বিজিবি এবং কোস্টগার্ড মোতায়েন করা হয়েছে সমগ্র মহানগরীতে। প্রায় সাত হাজার নিরাপত্তা কর্মী শুক্রবার থেকে রোববার পর্যন্ত নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছেন। নগরীর প্রবেশ পথগুলোতে পুলিশের বাড়তি চেকপোস্ট বসানো হয়েছে।

নির্বাচনে পুলিশ, এপিবিএন (আর্মড পুলিশ ব্যাটেলিয়ন) ও ব্যাটেলিয়ন আনসারের সমন্বয়ে ৩১টি মোবাইল ফোর্স, ১১টি স্ট্রাইকিং ফোর্স এবং ৠাবের ৮টি স্ট্রাইকিং ফোর্স ও ৪টি রিজার্ভ ফোর্স থাকবে। সেনাবাহিনী না থাকলেও ৭ প্লাটুন বিজিবি ও ৩ প্লাটুন কোস্টগার্ড থাকছে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে।

শনিবার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে নগরীর ৩১টি ওয়ার্ডের ২৮৮টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ করা হবে। ভোটারদের সুবিধার্থে এক হাজার ৪২৮টি স্থায়ী বুথ ছাড়াও ৩৩টি অস্থায়ী বুথ নির্মাণ করা হয়েছে। এবার ২০২টি কেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ বা ঝুঁকিপূর্ণ ও ৮৬টি কেন্দ্রকে সাধারণ কেন্দ্র হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

সাধারণ ভোট কেন্দ্রে ২২ জন ও ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ২৪ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর  সদস্য মোতায়েন রয়েছেন। সাধারণ কেন্দ্রগুলোতে  একজন এসআইয়ের (উপপরিদর্শক) নেতৃত্বে সাতজন সশস্ত্র পুলিশ, একজন সশস্ত্র আনসার, দু’জন অঙ্গীভূত সশস্ত্র আনসার এবং ১২ জন ভিডিপি সদস্য মোতায়েন রয়েছেন। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে রয়েছেন অতিরিক্ত দু’জন আনসার।

ভৈরব ও রূপসা নদীতে দিনভর টহল দেবে কোস্টগার্ডের দু’টি ইউনিট। এসব কাজে সহযোগিতা করতে দায়িত্ব পালন করছেন ২৫ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং পাঁচজন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট।

কোন মন্তব্য নেই:

Popular Posts