রবিবার দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা ও উপপরিচালক প্রণব কুমার ভট্টাচার্য ঢাকা
টাইমসকে জানান, ডিসি ডিবি নজরুল ইসলামের ব্যাপারে যে অভিযোগ উঠেছে তা
তদন্ত করা হবে। এ সংক্রান্ত খবরের ক্লিপিং দুদক চেয়ারম্যানের কাছে দেয়া
হবে। তিনি এটি অনুমোদন দিলে তদন্তের জন্য কমিটি গঠন করা হবে।
এক ব্যবসায়ীকে বিনা কারণে আটক করে কোটি টাকা ঘুষ আদায়ের অভিযোগ উঠায় ডিসি
ডিবি মোল্যা নজরুল ইসলামসহ ডিবির তিন কর্মকর্তাকে শনিবার সরিয়ে নেয়া হয়।
বাকি দুজন হলেন- ডিবির পরিদর্শক আজহারুল ইসলাম ও উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল
হাসনাত।
নড়াইল এলাকার সরকারদলীয় সাংসদ কবিরুল হক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে করা
অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। পুলিশের মহাপরিদর্শক
(আইজিপি) ও ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনারসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কাছে
অভিযোগপত্রের অনুলিপি পাঠিয়েছেন সাংসদ। লিখিত অভিযোগের সঙ্গে চাঁদা গ্রহণের
প্রমাণ হিসেবে ভিডিও ফুটেজ, অডিও রেকর্ড ও ব্যাংক স্টেটমেন্ট জমা দিয়েছেন
তিনি। অভিযোগে বলা হয়, গত ৬ এপ্রিল রাতে ডিবির উপকমিশনার নজরুল ইসলামের
নির্দেশে ডিবি পুলিশ ব্যবসায়ী আবিদুল ইসলামকে গুলশানের বাসা থেকে বিনা
কারণে ধরে নিয়ে যায়। পরে তাঁর কাছ থেকে এক কোটি টাকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।
ডিএমপি কমিশনারের দায়িত্বে থাকা মোহা. আবদুল জলিল মণ্ডল বলেন, ঘুষ
লেনদেনের অভিযোগ ওঠার পর নজরুল ইসলামকে বদলি ও ডিবির অপর দুই সদস্যকে
প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। ডিবির যুগ্ম কমিশনার মো. মনিরুল ইসলামকে
ঘটনাটি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ডিবির যুগ্ম কমিশনার বলেন, ‘ব্যক্তির
দায় সংস্থা নেবে না। ঘুষ লেনদের ঘটনায় তদন্ত চলছে।’
সাংসদের অভিযোগপত্রে বলা হয়, ভুক্তভোগী সৈয়দ আবিদুল ইসলাম নড়াইলের
ভদ্রবিলা ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের নেতা। ডিবির এসআই আবুল হাসনাত ইউনাইটেড
কমার্শিয়াল ব্যাংক ও ব্র্যাক ব্যাংকের শান্তিনগর শাখা থেকে ঘুষের টাকা
তুলেছেন। এক কোটি টাকা ঘুষ নেওয়ার পর তাঁকে ৭ এপ্রিল ডিবি কার্যালয় থেকে
ছেড়ে দেওয়া হয়। ব্যাংকের ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরায় (সিসি) ভিডিও ফুটেজ দেখলে
এর সত্যতা পাওয়া যাবে। নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার
আবেদন জানান সাংসদ কবিরুল। অভিযোগের সঙ্গে ব্যাংক হিসাব ও এসআই হাসনাতের
সঙ্গে কথোপকথনের অডিও রেকর্ডও জমা দিয়েছেন তিনি।
অভিযুক্ত নজরুল ইসলাম দাবি করেন তিনি ঘুষ নেননি। নজরুল জানান, ‘ব্যবসায়ী
আবিদুল, আমার ও সাংসদের বাড়ি একই এলাকায়। আমরা পরস্পরকে চিনি। নড়াইল একই
আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিলেন বিমল বিশ্বাস। সাংসদ কবিরুল ছিলেন
বিদ্রোহী প্রার্থী। আমার পরিবার ও আত্মীয়স্বজন নির্বাচনে বিমলকে সমর্থন
দিয়েছিলেন। সে সময় থেকে সাংসদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কিছুটা দুরত্ব তৈরি
হয়েছে। এ কারণে আমার বিরুদ্ধে তিনি অভিযোগ করেছেন।’
ব্যবসায়ী আবিদুল ইসলাম বলেন, ডিবির দল তার বাসায় ঢুকে বলে, এ বাসায়
হেফাজতে ইসলাম ও হিযুবত তাহ্রীর সদস্যদের আসা-যাওয়া আছে। এ কথা বলেই তারা
আলমারিতে তল্লাশি চালায়। এসআই হাসনাত তাকে বলেন, ডিসি-ডিবি নজরুল ইসলামের
নির্দেশে তারা এসেছেন। একপর্যায়ে ইনস্যুরেন্স কোম্পানির গাড়িতে করে তাকে
ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে পরিদর্শক আজহারুল ইসলামের কক্ষে বসানো হয়। তিনি দাবি
করেন, আজহার ও হাসনাত ডিবি কার্যালয়ে তার কাছে পাঁচ কোটি টাকা চান। টাকা না
দেওয়া হলে তাকে অস্ত্র ও গ্রেনেড মামলায় ফাঁসিয়ে দিয়ে রিমান্ডে নিয়ে
নির্যাতন করা হবে। এমনকি ক্রসফায়ারের ভয়ও দেখানো হয় বলে অভিযোগ করেন আবিদুল
ইসলাম।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন