তারপর
থেকে প্রতিবাদের ঝড় আরো তীব্র৷ শিক্ষকজাতির কলঙ্ক হয়ে ওঠা চেন জাইপেংয়ের
প্রতি একই আহ্বান জানিয়ে ঘৃণা জানাচ্ছেন অনেকেই৷ এমনকি পুরুষরাও শয্যায়
যেতে চাইছেন হানিয়ান প্রদেশের ওই শিক্ষকের সঙ্গে৷ বেইজিংয়ের কবি ওয়াং
জেং নিজের নগ্ন দেহের ছবি প্রকাশ করেছেন৷ ছবিতে দেখা যাচ্ছে তাঁর পিঠেও
লেখা, ‘‘অধ্যক্ষ, আমাকে একটা ঘরে নিয়ে যাও, ছেড়ে দাও বাচ্চা
মেয়েগুলোকে”৷ এমন প্রতিবাদেই অবশ্য থেমে নেই চীনবাসী৷ সামাজিক যোগাযোগের
মাধ্যমে নানাভাবে চলছে শিশুদের ওপর যৌননিপীড়ন চালানোর তীব্র প্রতিবাদ৷
চীনে
অপ্রাপ্তবয়স্কদের যৌন হয়রানির শিকার হওয়া নতুন কিছু নয়৷ দেশটিতে যৌন
শিক্ষার প্রচলন হয়নি এখনো, বাবা-মায়েরাও সন্তানদের কিভাবে বয়স বাড়ার
সঙ্গে সঙ্গে এমন ভোগান্তি এড়ানো যায়, তা শেখানো না৷ বেইজিং নিউজ পত্রিকার
চালানো সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, চীনের ৩৭ দশমিক ৪ ভাগ বাবা-মা
সন্তানকে কিভাবে যৌন হয়রানির হাত থেকে বাঁচতে শেখাবেন তা জানেন না!
এমন
অজ্ঞতার সুযোগ নিচ্ছে কতিপয় মানুষ৷ উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তারা
অপ্রাপ্তবয়স্ক পতিতাদের সঙ্গে রাত কাটাতে পছন্দ করেন৷ সাধারণ মেয়েরা কারো
যৌন লালসার শিকার হলেও অন্যায়কারী শাস্তি পায়না৷ স্কুলগুলো গোপনেই
মিটিয়ে নেয় বিষয়টি৷ কম বয়সিদের যৌন হয়রানির শিকার হওয়া যে চীনে
প্রায় নিত্যদিনের ঘটনা সাম্প্রতিক কিছু ঘটনাই তাঁর প্রমাণ৷ গত তিনমাসে
স্কুলের শিক্ষক বা অন্য কোনো কর্মীর কাছে ছাত্রীর যৌননিগ্রহের শিকার হওয়ার
ঘটনা ঘটেছে কমপক্ষে সাতটি৷ আট বছরের শিশুও হয়েছে যৌন লালসার শিকার!
‘‘অধ্যক্ষ, আমাকে একটা ঘরে নিয়ে যাও, ছেড়ে দাও বাচ্চা মেয়েগুলোকে”- এ
আহ্বানের মাধ্যমে প্রকাশিত ক্ষোভ, ঘৃণা এবং সরকারের কঠোর পদক্ষেপ এমন
অনাচার বন্ধ করতে পারলেই হয়!
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন