নিজস্ব প্রতিনিধি.:::. ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের কবলে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশ। গত কিছুদিন থেকে রাজধানীসহ সারাদেশের মানুষ সম্মুখীন হচ্ছে
লোডশেডিংয়ের। রাতেরবেলা কিছুটা সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ থাকলেও দিনের বেলা
প্রায়
বন্ধই থাকে। লোডশেডিং নিয়ে মানুষ অতিষ্ট হয়েও
তিক্ত সুরে বলে- “বিদ্যুৎ তো যায়না, মাঝে মাঝে আসে”।
নগরীর কোনো কোনো এলাকায় টানা দুই-তিন ঘণ্টা
পর্যন্ত লোডশেডিং করা হয়। এ কারণে
প্রচন্ড খড়তাপে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে রাজধানী বাসীর।
অসহনীয় গরমে বিপর্যস্ত হয়ে
পড়ছে নগরীর জনজীবন। মেঘ কেটে
যাওয়ায় এই দাবদাহ আরো কয়েকদিন থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, আকাশে মেঘ না থাকা এবং বাতাসের আদ্রতা কম থাকায় তাপমাত্রা বেড়েছে। অন্যদিকে পিডিবি কর্মকর্তারা বলছেন,গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ
কেন্দ্রগুলোতে উৎপাদন বন্ধ থাকায় বেড়েছে লোডশেডিং।
এটা শুধু রাজধানীর চিত্র নয়, সারা দেশের মানুষই
প্রচণ্ড গরমে অস্থির। বৈশাখ ও জ্যৈষ্ঠ মাসে বৃষ্টি হলেও
বর্ষাকালের শুরুতে
এর দেখা নেই। আকাশে নেই মেঘের দেখা। বরং আছে দাবদাহ। ভাপসা গরমে
কাবু
সবাই।
আষাঢ় মাসের চার দিন চলে গেছে। অথচ
বৃষ্টির দেখা নেই। এ কারণে তাপমাত্রা বাড়ছে। বাড়ছে গরম। আর গরমে
পালিয়েছে আরাম।
গতকাল সোমবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল
সৈয়দপুরে, ৩৭
দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাজধানী
ঢাকায় ছিল ৩৫ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আজ সকালে
ঢাকার তাপমাত্রা কিছুটা কমে ৩২ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ হাফিজুর রহমান জানান,
মৌসুমি
বায়ু সারা দেশে বইলেও এর প্রভাব তেমন নেই। তা ছাড়া
মেঘশূন্য
আকাশ ও দিনের ব্যাপ্তি বেশি হওয়ায় গরম পড়ছে। আর্দ্রতা
বেশি থাকায়
মানুষের শরীর থেকে ঘাম ঝরছে। তবে বুধবার দেশের
উত্তরাঞ্চলে বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
মহাখালীর উদরাময় গবেষণা কেন্দ্রের (আইসিডিডিআরবি)
প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (চিফ ফিজিশিয়ান) আজহারুল ইসলাম খান জানান,
গতকাল
রাত ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৩৯৭ জন রোগী সেখানে ভর্তি হয়েছে। আরও কয়েক দিন গরম পড়লে রোগীর সংখ্যা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মিরপুরে শিশুস্বাস্থ্য ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক এ
কে এম শামসুজ্জামান বলেন, ‘আমাদের এখানে বহির্বিভাগে রোগীর তেমন একটা
চাপ নেই। তবে হাসপাতালে যেসব শিশু ভর্তি হচ্ছে,
তাদের
বেশির ভাগই ডায়রিয়া,
শ্বাসজনিত
রোগে আক্রান্ত।’
গরমে সবাইকে প্রচুর পানি ও খাওয়ার স্যালাইন
পানের পরামর্শ দিয়ে জাতীয় অধ্যাপক এম আর খান বলেন, ‘ঘরের পরিবেশ
যতটা
সম্ভব ঠান্ডা রাখা গেলে ডায়রিয়া ও শ্বাসজনিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কম
থাকে।’
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন