M

<< WELLCOME TO DASAR KHOBOR >> পাকিস্তানের নারীদের দেয়া হচ্ছে যৌন শিক্ষা >> সাভারে পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে একজন নিহত >> মিয়ানমারে প্রধানমন্ত্রীকে লাল গালিচা সংবর্ধনা >> মিরপুরে মিল্কভিটা বস্তিতে আগুন >> ভারতকে হারিয়ে ফাইনালের পথে পাকিস্তান>> দৌলতপুরে সরকারী গাছ কেটে আত্মসাতের চেষ্টা করেছে সরকারী দলের নেতা >>রাহুল গান্ধীকে চুমু খাওয়ায় স্ত্রীকে পুড়িয়ে হত্যা >> মেহেরপুরের পাঁচ গুণীজনকে সম্মাননা প্রদান >> পুনরায় নির্বাচনের দাবিতে কক্সবাজারে হরতাল চলছে >> এশিয়া কাপে আজ যুদ্ধ ভারত ও পাকিস্তানের >> পলাতক ২ জঙ্গি ধরতে গাইবান্ধায় গোয়েন্দাজাল >> সেনাবাহিনী নামছে ৫৯ জেলায় >> বাংলাদেশকে হুঁশিয়ারি দিল আল কায়েদা!>>

বুধবার, ৫ জুন, ২০১৩

যৌন উত্তেজনা বৃদ্ধিসহ সর্বরোগের মহৌষধ বাণিজ্য

মোটা তাজাকরণ, স্লিম হওয়া, যৌন উত্তেজনা বৃদ্ধি, চেহারা সৌন্দর্যকরণ, চুলপড়া বন্ধ ও টাকা মাথায় চুল গজানোসহ সর্বরোগের মহৌষধের নামে প্রকাশ্যে চলছে প্রতারণা বাণিজ্য। এসব রোগ সারাতে গিয়ে নারী-পুরুষ আক্রান্ত হচ্ছে ক্যান্সার, কিডনি, লিভারসহ নানা মরণব্যাধিতে। দীর্ঘদিন যাবত্ সরকারের ওষুধ প্রশাসনের সামনে এই প্রতারণা বাণিজ্য
চলে আসছে। প্রশাসনের ব্যর্থতার কারণে দেশে রোগব্যাধি নিরাময়ের নামে নামিদামি প্রতিষ্ঠান বাহারি ও চটকদার প্রচারণা চালিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। উপহার দিচ্ছে মরণব্যাধি। মোবাইল কোর্ট এই অপচিকিত্সার বিরুদ্ধে মাঝে মাঝে অভিযান পরিচালনা করে জেল জরিমানা করলেও এসব জেল জরিমানা আমলে নেয় না সর্বরোগের মহৌষধ সরবরাহকারি প্রতিষ্ঠান। স্বাস্থ্য ও ওষুধ প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল প্রশাসনের চোখের সামনে মানুষ মারার এই বাণিজ্য বছরের পর বছর ধরে চলে আসছে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে। আইনের কঠোর ব্যবস্থা থাকলেও এর বাস্তবায়ন নেই। কেউ দায়-দায়িত্বও নেয় না। এই সুযোগে নামিদামি প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে ফুটপাত পর্যন্ত সর্বরোগের মহৌষধের ছড়াছড়ি।দেশের খ্যাতিমান বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকরা প্রায়ই সভা-সেমিনারে অপচিকিত্সা ও সর্বরোগের মহৌষধের বাণিজ্য সম্পর্কে সতর্ক করে আসছেন। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এই অপচিকিত্সার খপ্পরে পড়ে দেশে ক্যান্সার, কিডনি, লিভার, ডায়াবেটিস, অসময়ে গর্ভপাত, গর্ভবতী মায়েদের বিকলাঙ্গ, হাবাগোবা শিশুর জন্ম দেয়া আশংকাজনক হারে বেড়েই চলেছে। এই অপচিকিত্সার বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা না নিলে ২০২০ সালের মধ্যে দেশে মরণব্যাধি মহামারি আকারে দেখা দিবে। তখন স্বাস্থ্য প্রশাসনের অসহায়ত্ব প্রকাশ করা ছাড়া কিছুই করার থাকবে না। জনগণের বৃহত্তর স্বার্থে সময় থাকতে অপচিকিত্সার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহবান জানিয়েছেন এই বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকগণ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তা এর সত্যতা স্বীকার করে বলেছেন, অবশ্যই এই অপচিকিত্সার বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া ছাড়া কোন বিকল্প নেই। বর্তমানে রোগব্যাধি যে হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে তা সামাল দেয়াও কঠিন হয়ে পড়ছে বলে জানান তিনি।
ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের দুই কর্মকর্তা বলেন, ভারতীয় সন্ধিসূধা নামে তৈরি নকল ভেজাল চেহারা সৌন্দর্যকরণ ওষুধ, যৌন উত্তেজক, ব্যথানাশক, চুলপড়া রোধ, স্লিম ও লম্বা হওয়াসহ সর্বরোগের মহৌষধের প্রধান সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানটি ৫০/৩ পল্টনের তৃতীয় তলায়। সেই কার্যালয় থেকে সরবরাহ হয়ে আসছে এসব জীবনঘাতী ওষুধ। ওষুধ প্রশাসনের কোন ধরনের অনুমতি ছাড়াই এই প্রতিষ্ঠানটি এই বাণিজ্য চালিয়ে আসছে। নিয়ম-কানুনের কোন ধরনের তোয়াক্কা করছে না তারা। এর আগে ভ্রাম্যমাণ আদালত ছয় লক্ষ টাকা জরিমানা করেছে। জরিমানার টাকা দিয়েই তারা পুনরায় এই বাণিজ্য চালিয়ে আসছে। ওষুধ প্রশাসনের কতিপয় দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা এই অপচিকিত্সার প্রতিষ্ঠান থেকে নিয়মিত মাসোহারা পেয়ে আসছেন। ওষুধ প্রশাসনের চরম ব্যর্থতা ও দুর্নীতির কারণে সর্বরোগের মহৌষধ নামিদামি প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু হয়ে দেশব্যাপী সয়লাব হয়ে গেছে। শিক্ষিত-অশিক্ষিত, কিশোর-কিশোরী থেকে শুরু করে মধ্যবয়সী নারী-পুরুষ এই সর্বরোগের মহৌষধের প্রধান ক্রেতা। পল্টনের ওই তৃতীয় তলায় প্রতিদিন লাইন ধরে নারীরা এই ওষুধ ক্রয় করছেন। ব্যবহারের কয়েক মাস পর শুরু হয় নানা উপসর্গ। মেয়েদের চেহারা বিবর্ণ, মুখমণ্ডলে ক্যান্সার, কিডনিসহ নানা জটিল ব্যাধিতে আক্রান্ত হন তারা। এসব রোগ নিয়ে তারা শরণাপন্ন হন বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকের কাছে। চিকিত্সকরা রোগের উপসর্গ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তারা এসব ওষুধ ব্যবহারের কথা জানান। ওই সময় রোগীরা বলেন, স্যার আপনাদের সতর্কবাণী পাওয়ার পরেও আমরা চটকদার ও বাহারি ধরনের প্রচারণা দেখে লোভ সংবরণ করতে পারিনি।
গত বৃহস্পতিবার রাতে র‌্যাব-৩ ও র‌্যাব হেডকোয়ার্টার্সের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এএইচ আনোয়ার পাশার নেতৃত্বে পল্টনস্থ সন্ধিসূধার প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালানো হয়। গভীর রাত পর্যন্ত চলে অভিযান। বিপুল পরিমাণ নকল ও ভেজাল ওষুধ সামগ্রীসহ নানা ধরনের পণ্য জব্দ করেন তারা। আটক করেন ৫ জনকে। সর্বরোগের মহৌষধ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের প্রধান সজীবুর রহমান ও তার পার্টনার মানবেন্দ্র কর্মকারকে দুই বছর করে কারাদণ্ড এবং প্রত্যেককে দুই লাখ টাকা করে জরিমানা এবং অনাদায়ে আরো তিন মাসের কারাদণ্ড প্রদান করে মোবাইল কোর্ট। অপর তিন কর্মকর্তা জুবায়ের হোসেন, স্বপন কর্মকার ও রাশেদুল ইসলামকে এক বছর করে জেল এবং এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া অনাদায়ে তাদের আরো তিন মাসের সাজা দেয় ভ্রাম্যমাণ আদালত।

কোন মন্তব্য নেই:

Popular Posts