M

<< WELLCOME TO DASAR KHOBOR >> পাকিস্তানের নারীদের দেয়া হচ্ছে যৌন শিক্ষা >> সাভারে পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে একজন নিহত >> মিয়ানমারে প্রধানমন্ত্রীকে লাল গালিচা সংবর্ধনা >> মিরপুরে মিল্কভিটা বস্তিতে আগুন >> ভারতকে হারিয়ে ফাইনালের পথে পাকিস্তান>> দৌলতপুরে সরকারী গাছ কেটে আত্মসাতের চেষ্টা করেছে সরকারী দলের নেতা >>রাহুল গান্ধীকে চুমু খাওয়ায় স্ত্রীকে পুড়িয়ে হত্যা >> মেহেরপুরের পাঁচ গুণীজনকে সম্মাননা প্রদান >> পুনরায় নির্বাচনের দাবিতে কক্সবাজারে হরতাল চলছে >> এশিয়া কাপে আজ যুদ্ধ ভারত ও পাকিস্তানের >> পলাতক ২ জঙ্গি ধরতে গাইবান্ধায় গোয়েন্দাজাল >> সেনাবাহিনী নামছে ৫৯ জেলায় >> বাংলাদেশকে হুঁশিয়ারি দিল আল কায়েদা!>>

বুধবার, ৫ জুন, ২০১৩

ধর্ষণের প্রতিবাদে ফুঁসছে অনলাইন

ধর্ষণের প্রতিবাদে ফুঁসছে অনলাইন ঢাকা: ধর্ষিতার কণ্ঠ আমরা। বিচারের বাণী কাঁদবে না নিভৃতে। জাগো মানুষ, জাগাও মানবতা। ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই- ফেসবুকের কভার ছবিতে এমনটাই লিখেছেন ‘ডাক্তার আইজু’ নামে এক ফেসবুক অ্যাক্টিভিস্ট। গাজীপুরে ১১ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রীকে ধর্মান্তরিত করে টানা ৫৫ দিন ধর্ষণের সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর থেকে এভাবেই ফেসবুক,
টুইটার, ব্লগসহ বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমে চলছে প্রতিবাদ। দাবি করছেন ধর্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি।

উল্লেখ্য, গত প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছিল গাজীপুরের টঙ্গীর এক মেধাবী ছাত্রী। এর স্বীকৃতি হিসেবে স্থানীয় এমপি জাহিদ হাসান রাসেল তাকে পুরস্কৃতও করেছিলেন। কিন্তু গত ৬ এপ্রিল থেকে ধর্মের নামে এক দুঃসহ বর্বরতার শিকার হয় হিন্দু ধর্মাবলম্বী হতভাগ্য এ মেধাবী শিশুটি। ওই দিন বিদ্যালয় থেকে ফেরার পথে অপহৃত হয় ক্লাস সিক্সে পড়া শিশুটি। পরে তাকে জোরপূর্বক ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত করে কথিত বিয়ের নামে চক্রটির এক সদস্য তাকে আটকে রেখে ৫৫ দিন ধরে ধর্ষণ করে। অবশেষে কক্সবাজারের চকরিয়া থেকে তাকে উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশের ভাষ্য মতে, এ অপহরণ ঘটনায় জড়িত ছিল চকরিয়া ও মহেশখালী উপজেলার ছয় মাদক ব্যবসায়ীর একটি চক্র। তৎক্ষণাৎ তাকে অপহরণকারী দলের এক সদস্য মানিকের সঙ্গে পাতানো বিয়ে দেওয়া হয়। ছাত্রীটির অভিযোগ, ৬ এপ্রিল অপহরণের পর ৭ এপ্রিল থেকেই তাকে পর্যায়ক্রমে ধর্ষণ করেছে মানিক।

গল্পকার জান্নাতুন নাইম প্রীতি ফেসবুকে এ ঘটনায় তার হতাশা প্রকাশ করেন এভাবে, “জোর করে ধরে এনে একটা মেয়েকে ধর্মান্তরিত করে টানা ৫৫ দিন ধর্ষণ করার পর জাত যাবে সেই মেয়েটার, আর ধর্ষণকারী বীরদর্পে ঘুরে বেড়াবে? আমি জানি না... নিজেকে মাঝে মাঝে অভাগা লাগে, এখনও লাগছে!”

“আমরা যারা ধর্ষণের প্রতিবাদ করবো, তারা হয়ে যাবো তসলিমা নাসরিন? অন্যায়ের প্রতিবাদ করলে বেশ্যা গালিও শুনেছি!”

তিনি ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, “রাষ্ট্রের নারী ও শিশুদের জন্য যে মন্ত্রণালয় আছে তারা কি করছে সেটা স্পষ্ট! সবকিছুই তারা পাশ কাটিয়ে যাবে...! এটা এখন দিবালোকের মতো পরিষ্কার, দিনশেষে আমি সেই হতভাগা কিশোরী, যার জন্য অপেক্ষা করছে মৃত্যু বা তার চেয়েও ভয়ঙ্কর কিছু!”

অজয় রায় নামে এক ফেসবুক অ্যাক্টিভিস্ট লিখেছেন, “ধর্ষক অথবা খুনির ধর্মীয় পরিচয় মোটেও গুরুত্বপূর্ণ নয়। গুরুত্বপূর্ণ তার ব্যক্তি পরিচয়, তার রাজনৈতিক পরিচয়। দেখা দরকার, কারা এই অপরাধের পর অপরাধীকে রক্ষা করার চেষ্টা করছে। আমরা খেয়াল করলে দেখবো, প্রায় সকল অপরাধীকেই কোনো না কোনো শক্তিমান বাঁচাতে চেষ্টা করেন। যতোদিন অপরাধীদের রক্ষা করার এই ধারাটি থাকবে, ততোদিন অপরাধ ঘটতেই থাকবে। আমরা সেই অপরাধের বিচার চাইবো, কিন্তু অল্পদিনের মধ্যেই নতুন কোনো ঘটনায় আগেরটি চাপা পড়ে যাবে। যেভাবে চাপা পড়েছে নিকট অতীত অথবা বর্তমানের অনেক ঘটনা, হয়তো সেভাবেই চাপা পড়ে হারিয়ে যাবে ১১ বছরের শিশুটির ঘটনাও।”

আফরোজা শীলা নামে এক ব্যবহারকারীর প্রশ্ন, “আচ্ছা, একটা মেয়ে ধর্ষিতা হলে সেটা তার জন্য লজ্জার এবং অপমানজনক কেন? সে সমাজে মুখ লুকিয়ে চলবে কেন? আদতে লজ্জিত, অপমানিত ও মুখ লুকিয়ে চলার কথা কার? ”

তার প্রতিবাদের ভাষা এরকম- “এখন পর্যন্ত একজন ধর্ষিতাকে সমাজের অন্যান্যদের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে চলার সাহস যোগাইতে পারেন নাই। মিডিয়ায় তার ছবি প্রকাশ করলে আপনারা বিচার চাওয়ারাই ঘেউ ঘেউ কইরা ওঠেন- সমানে চিল্লাইতে থাকেন এই বইলা যে মেয়েটারে ছোট করা হইসে, মেয়েটারে লজ্জা দেওয়া হইসে ব্লা ব্লা ব্লা। আপনারা নিজেরাই তো তাহলে বিশ্বাস করেন ধর্ষিত হওয়া লজ্জাজনক।”

“যদি পারেন তাইলে ধর্ষকের বিচারের পাশাপাশি ধর্ষিতার সামাজিক অবস্থান প্রতিষ্ঠা করেন,” এমনটাই বলেন তিনি।

ধর্ষণের ঘটনায় বাংলাদেশের গণমাধ্যমের দায়বদ্ধতার প্রতি প্রশ্ন রেখে শেখর পার্থ চক্রবর্তী ফেসবুকে লিখেছেন, “ভারতের দামিনী কিংবা পাকিস্তানের মালালার ক্ষেত্রে আমাদের মিডিয়ার নীতি একরকম, আর আমার এক ১১ বছর বয়সী ছোট বোনের জন্য অন্যরকম কেন সেটা কি জানতে পারি? দামিনীর ঘটনায় আমাদের মিডিয়া যতোটুকু কভারেজ করেছে, এক্ষেত্রে তার কোনো কিছুই নেই কেন, এটা কি কেউ ভেবে দেখেছেন? একবার ভেবে দেখুন, মাত্র ১১ বছরের একটি মেয়ে, তাকে টানা ৫৫টি দিন দুর্বিষহ নির্যাতন করা হয়েছে। কিন্তু এর প্রতিবাদের জন্য কয়টা দাবি উঠেছে.... আমরা কি কোনো দেশব্যাপী আন্দোলন শুরু করতে পেরেছি? না, পারিনি।”

বাংলাদেশের ফেসবুক অ্যাক্টিভিস্টদের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয়দের একজন আরিফ আর হোসাইন লিখেছেন, “ধর্ষণের ঘটনায় সামনে এগিয়ে না আসলে আপনি নিজেও ধর্ষণের শিকার।”

সামহোয়্যারইনব্লগে ‘দায়িত্ববান নাগরিক’ নামে এক ব্লগার মানুষের সামাজিক দায়বদ্ধার প্রতি প্রশ্ন রেখে বলেন, “আমি জানি, আমার বকবকানি আপনাদের মনে কোনো সাড়া জাগাতে পারেনি। কারণ, এই মেয়েটি আপনার মেয়ে ছিল না, আপনার বোন ছিল না। পঞ্চান্নটি দিন ধরে আপনার কোনো আপনজনকে একনাগাড়ে ধর্ষণ করা হয়নি। তাই আপনি নিশ্চিন্তে মুখে কুলুপ এঁটে বসে থাকবেন, কাজে ব্যস্ত থাকবেন সারাদিন, দিন শেষে পরিবারের কাছে ফিরে গিয়ে আনন্দে মেতে উঠবেন। এগারো বছরের ধর্ষিতা বালিকাটি এক বীভৎস স্মৃতি নিয়ে বেঁচে থাকবে সারাজীবন, আপনি তার কোনো খবরই জানবেন না।”

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ডাল্টন সৌভাত হীরা ব্যাঙ্গাত্মক ফেসবুক স্ট্যাটাস উল্লেখযোগ্য-

“কমরেড বললেন, খবর কিছু শুনেছ বাছা?

“আমি বললুম, কি খবর কমরেড?”

“কমরেড বললেন, গাজীপুরের এক হিন্দু বালিকাকে নাকি জোর করে ধর্মান্তর করে টানা ৫৫ দিন আটকে রেখেছে, ধর্ষণ করেছে!”

“আমি বললুম, কি করে জানবো বলুন, এই হতভাগিনী তো মালালা নয় যে আমাদের ফেসবুক সুশীলরা ‘মালালা আমার মা’ বলে প্রোফাইল পিক চেঞ্জ করতে ব্যস্ত হয়ে পড়বেন। আর আমাদের নজরে পড়বে। তবে মেয়েটা যদি রোহিঙ্গা হতো, আর মিয়ানমারের বৌদ্ধরা তাকে ধর্মান্তর করে এভাবে ৫৫ দিন আটকে রাখতো, তাহলে এতক্ষণে শাহবাগ চত্বরের মজলিশি জনতার বিরাট এক সমাবেশে আমিও থাকতুম। হতভাগিনী একে বাংলাদেশের, তায় আবার হিঁদু; তার খবরটা কোনোক্রমে আপনি জেনেছেন মশাই এই তো যথেষ্ট! আমিও ফেসবুক গুঁতিয়েই সন্তুষ্ট।”

“কমরেড বলিলেন, আহা চটছো কেন বাছা, রেশিওনালি দেখো। মালালা পাক, আর এই মেয়েটা নাপাক! নাপাক জিনিসে হাত ময়লা করিতে সুশীলদের মন সায় দেয় না।”

কোন মন্তব্য নেই:

Popular Posts