ঢাকা : সাভারে যুবলীগ নেতা সোহেল রানার মালিকানাধীন ‘রানা প্লাজা’র ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা পোশাককর্মী রেশমার কাহিনীটি একটি ভাঁওতাবাজি ছিল বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের
বহুল প্রচারিত ট্যাবলয়েড ‘দৈনিক মিরর’। রোববার দৈনিকটিতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘রানা প্লাজা ধসের প্রথম দিনই রেশমা বের হয়ে এসেছিলেন।’ সরকারের পক্ষ থেকে প্রচার করা হয় যে, রানা প্লাজা ধসের ১৭ দিন পর ১০ মে রেশমাকে উদ্ধার কর হয়। এটাকে অলৌকিক ঘটনা বলেও তখন প্রচার করা হয়। ঢাকা থেকে পাঠানো ‘বাংলাদেশ ক্লথস ফাক্টরি ডিজাস্টার ইজ ব্র্যান্ডেড এ হোক্স বাই কলিগ অব উইম্যান রেসকিউড’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, রেশমার সহকর্মী জানান, ভবন ধসের প্রথম দিনই বের হয়ে আসেন তিনি। অনুসন্ধানে মিরর জানতে পারে রেশমার ওই সহকর্মীও প্রথম দিনই তার (রেশমার) সঙ্গে বের হয়ে আসতে সক্ষম হন।
রেশমাকে উদ্ধারের কথা যেদিন প্রচার করা হয় সেদিন বিশ্বব্যাপী কোটি কোটি মানুষ উল্লাস করেছিল। গত ২৪ এপ্রিল সকালে রানা প্লাজা ধসে পড়ে। এতে অন্তত ১ হাজার ১২৯ জন লোক মারা যায়। রেশমার সহকর্মী ওই ভবনের তৃতীয় তলায় কাজ করতেন। তিনি বলেন, ‘আমরা একত্রেই বের হয়ে আসি। আমরা উভয়ই ধ্বংসস্তূপ থেকে হেঁটে বের হই।’ তিনি বলেন, ‘আমরা হাসপাতালে দু’দিন ছিলাম। তারপর তার হদিস পাইনি। এর ১৭ দিন পর আমি তাকে টিভিতে দেখতে পাই। তারা বলেছিলেন এটা ছিল অলৌকিক। কিন্তু এটা ছিল বানোয়াট।’ এ ব্যাপারে অনুসন্ধানের জন্য সানডে মিররের (মিরর পত্রিকার রবিবাসরীয় প্রকাশনা) প্রতিনিধি বাংলাদেশ সফর করেন। সেখানে সরকারবিরোধী কর্মীরা বলেন, রানা প্লাজা ধসের পর অপপ্রচার থেকে বাঁচতে এটা ছিল সরকারের একটি সাজানো নাটক। প্রতিবেদনে বলা হয়, এ ঘটনার প্রমাণ হিসেবে তাদের রেকর্ড শোনানো হয়। কিন্তু প্রতিশোধমূলক হামলার আশঙ্কায় তার নাম প্রকাশ করা হলো না। প্রতিবেদনে বলা হয়, রেশমাকে নিয়ে ভাঁওতাবাজির খবর প্রথম প্রকাশ করে সরকারবিরোধী দৈনিক ‘আমার দেশ’ পত্রিকা। উদ্ধার হওয়া শ্রমিকেরা রেশমার বাড়িওয়ালাকে জানান যে, উদ্ধার হওয়ার পর রেশমাকে এনাম মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসাও দেওয়া হয়। রানা প্লাজার আশেপাশের বাসিন্দারা জানান, রেশমাকে উদ্ধারের আগে তাদের রহস্যজনকভাবে জোর করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয় এবং তাকে উদ্ধার করার পর আবার কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই তাদের বাড়িতে ফিরতে দেওয়া হয়। রেশমাকে উদ্ধারের ২৪ ঘণ্টা আগ থেকে সেখানকার ভিডিও ধারণ নিষিদ্ধ করা হয়। রেশমাকে উদ্ধারের সময় তার চেহারা এবং পোশাক নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অনুসন্ধানী সাংবাদিক শিশির আবদুল্লাহ জানান, তিনি যে ১৭ দিন ধরে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছিলেন তার কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। ‘তিনি বলেছিলেন যে, ইট ও ধ্বংসস্তূপের ভেতর দিয়ে হাতের ওপর ভর করে লাশের ওপর থেকে তিনি পানি সংগ্রহ করেছিলেন। কিন্তু তার হাত ও হাতের নখ সেই সে সাক্ষ্য বহন করে না।’ ‘তাকে যখন বের করে আনা হয় তখন তার চোখ ছিল একেবারেই খোলা এবং উজ্জল আলোতেও তার চোখে কোনো সমস্যা হচ্ছিল না। তার পোশাকে কোনো ফাড়া ছিল না এবং তা ছিল পরিষ্কার।’ ‘লোকজনের এ নিয়ে সন্দিহান হলেও সরকার এটাকে অলৌকিক বলে হৈচৈ করতে থাকে। সবাইকে বোকা বানানো হয়।’ এক সপ্তাহ আগে নিরক্ষর রেশমাকে সরকার আয়োজিত একটি সংবাদ সম্মেলনে হাজির করা হয় এবং জানানো হয় যে, তাকে ঢাকার ৫ তারা একটি হোটেলের অ্যাম্বাসেডর নিয়োগ করা হয়েছে। তিনি সেখানে মাসে বেতন ভাতা পাবেন ৬০ হাজার টাকা। এটা বাংলাদেশের গড় বেতনের ১০ গুণ। তাকে আমেরিকায় যাওয়ারও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। শুক্রবার এ ব্যাপারে কথা বলতে মিররের সাংবাদিক রেশমার বাড়ি (দিনাজপুরের) রানীগঞ্জ যান। রেশমার মা জোবেদা এটাকে ভাঁওতাবাজি বলে মানতে নারাজ। তিনি বলেন, সবাই এটাকে অলৌকিক বলে মনে করেন। তবে তিনি স্বীকার করেন যে, ‘রেশমা নতুন চাকুরি পাওয়ার পর আমাদের হাতে এখন অনেক টাকা। আমাদের এখন ভবিষ্যৎ উজ্জল। জোবেদা বলেন, হাসপাতালে গিয়ে তিনি দেখতে পান রেমশার হাতে সামান্য দাগ ছাড়া সে বেশ ভালোই আছে। সেনাবাহিনী তাকে দেখাশুনা করছেন। রেশমা তাকে জানান যে, তিনি সুখে আছেন। এ ব্যাপারে সেনাবাহিনীর বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করলে বাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কমান্ডার নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, ‘আমাদের কোনো মন্তব্য নেই।
রেশমাকে উদ্ধারের কথা যেদিন প্রচার করা হয় সেদিন বিশ্বব্যাপী কোটি কোটি মানুষ উল্লাস করেছিল। গত ২৪ এপ্রিল সকালে রানা প্লাজা ধসে পড়ে। এতে অন্তত ১ হাজার ১২৯ জন লোক মারা যায়। রেশমার সহকর্মী ওই ভবনের তৃতীয় তলায় কাজ করতেন। তিনি বলেন, ‘আমরা একত্রেই বের হয়ে আসি। আমরা উভয়ই ধ্বংসস্তূপ থেকে হেঁটে বের হই।’ তিনি বলেন, ‘আমরা হাসপাতালে দু’দিন ছিলাম। তারপর তার হদিস পাইনি। এর ১৭ দিন পর আমি তাকে টিভিতে দেখতে পাই। তারা বলেছিলেন এটা ছিল অলৌকিক। কিন্তু এটা ছিল বানোয়াট।’ এ ব্যাপারে অনুসন্ধানের জন্য সানডে মিররের (মিরর পত্রিকার রবিবাসরীয় প্রকাশনা) প্রতিনিধি বাংলাদেশ সফর করেন। সেখানে সরকারবিরোধী কর্মীরা বলেন, রানা প্লাজা ধসের পর অপপ্রচার থেকে বাঁচতে এটা ছিল সরকারের একটি সাজানো নাটক। প্রতিবেদনে বলা হয়, এ ঘটনার প্রমাণ হিসেবে তাদের রেকর্ড শোনানো হয়। কিন্তু প্রতিশোধমূলক হামলার আশঙ্কায় তার নাম প্রকাশ করা হলো না। প্রতিবেদনে বলা হয়, রেশমাকে নিয়ে ভাঁওতাবাজির খবর প্রথম প্রকাশ করে সরকারবিরোধী দৈনিক ‘আমার দেশ’ পত্রিকা। উদ্ধার হওয়া শ্রমিকেরা রেশমার বাড়িওয়ালাকে জানান যে, উদ্ধার হওয়ার পর রেশমাকে এনাম মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসাও দেওয়া হয়। রানা প্লাজার আশেপাশের বাসিন্দারা জানান, রেশমাকে উদ্ধারের আগে তাদের রহস্যজনকভাবে জোর করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয় এবং তাকে উদ্ধার করার পর আবার কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই তাদের বাড়িতে ফিরতে দেওয়া হয়। রেশমাকে উদ্ধারের ২৪ ঘণ্টা আগ থেকে সেখানকার ভিডিও ধারণ নিষিদ্ধ করা হয়। রেশমাকে উদ্ধারের সময় তার চেহারা এবং পোশাক নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অনুসন্ধানী সাংবাদিক শিশির আবদুল্লাহ জানান, তিনি যে ১৭ দিন ধরে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছিলেন তার কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। ‘তিনি বলেছিলেন যে, ইট ও ধ্বংসস্তূপের ভেতর দিয়ে হাতের ওপর ভর করে লাশের ওপর থেকে তিনি পানি সংগ্রহ করেছিলেন। কিন্তু তার হাত ও হাতের নখ সেই সে সাক্ষ্য বহন করে না।’ ‘তাকে যখন বের করে আনা হয় তখন তার চোখ ছিল একেবারেই খোলা এবং উজ্জল আলোতেও তার চোখে কোনো সমস্যা হচ্ছিল না। তার পোশাকে কোনো ফাড়া ছিল না এবং তা ছিল পরিষ্কার।’ ‘লোকজনের এ নিয়ে সন্দিহান হলেও সরকার এটাকে অলৌকিক বলে হৈচৈ করতে থাকে। সবাইকে বোকা বানানো হয়।’ এক সপ্তাহ আগে নিরক্ষর রেশমাকে সরকার আয়োজিত একটি সংবাদ সম্মেলনে হাজির করা হয় এবং জানানো হয় যে, তাকে ঢাকার ৫ তারা একটি হোটেলের অ্যাম্বাসেডর নিয়োগ করা হয়েছে। তিনি সেখানে মাসে বেতন ভাতা পাবেন ৬০ হাজার টাকা। এটা বাংলাদেশের গড় বেতনের ১০ গুণ। তাকে আমেরিকায় যাওয়ারও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। শুক্রবার এ ব্যাপারে কথা বলতে মিররের সাংবাদিক রেশমার বাড়ি (দিনাজপুরের) রানীগঞ্জ যান। রেশমার মা জোবেদা এটাকে ভাঁওতাবাজি বলে মানতে নারাজ। তিনি বলেন, সবাই এটাকে অলৌকিক বলে মনে করেন। তবে তিনি স্বীকার করেন যে, ‘রেশমা নতুন চাকুরি পাওয়ার পর আমাদের হাতে এখন অনেক টাকা। আমাদের এখন ভবিষ্যৎ উজ্জল। জোবেদা বলেন, হাসপাতালে গিয়ে তিনি দেখতে পান রেমশার হাতে সামান্য দাগ ছাড়া সে বেশ ভালোই আছে। সেনাবাহিনী তাকে দেখাশুনা করছেন। রেশমা তাকে জানান যে, তিনি সুখে আছেন। এ ব্যাপারে সেনাবাহিনীর বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করলে বাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কমান্ডার নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, ‘আমাদের কোনো মন্তব্য নেই।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন