ঝালকাঠি : র্যাবের গুলিতে পঙ্গু কলেজছাত্র লিমন হোসেনের বিরুদ্ধে
অস্ত্র আইনে দায়ের করা মামলায় অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। সোমবার দুপুরে ঝালকাঠি
অতিরিক্ত জেলা জজ আদালতের বিশেষ টাইব্যুনাল-২ এর বিচারক
একইসঙ্গে এই মামলা থেকে
অব্যাহতি চেয়ে দায়ের করা আবেদনের শুনানি শেষে আদালত তা খারিজ করে আগামী ২৬
আগস্ট সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য তারিখ নির্ধারণ করেন।
সোমবার
দুপুর সাড়ে ১২টায় শুরু হয়ে ১টা পর্যন্ত মামলার শুনানি চলে। এ সময় লিমন ও
তার মা হেনোয়ারা বেগম আদালতে উপিস্থত ছিলেন। আদেশ শেষে আদালত চত্বরে
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে লিমন ও তার মা হেনোয়ারা বেমন কান্নায় ভেঙে
পড়েন। সরকার পক্ষে অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর এম আলম খান কামাল ও লিমনের
পক্ষে তার আইনজীবী নাসির উদ্দিন কবির, আক্কাস সিকদার, মানিক আচার্য ও মো.
নসিম শুনানিতে অংশগ্রহণ করেন।
শুনানি চলাকালে লিমনের আইনজীবী
ও সরকার পক্ষের আইনজীবীর মধ্যে তুমুল তর্ক-বিতর্ক হয়। লিমনের আইনজীবীরা
আদালতকে বলেন, ২০১১ সালের ২৩ মার্চ বিকেলে লিমনকে গুলি করলে সে জ্ঞান
হারিয়ে পড়ে থাকে। এ সময় তার কাছ থেকে একটি পিস্তল উদ্ধার করা হয় বলে র্যাব
দাবি করেছে। র্যাবের এই দাবি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।
তারা
প্রশ্ন রাখেন, জ্ঞান হারানো একটি ছেলের কাছ থেকে কীভাবে র্যাব পিস্তল
উদ্ধার করলো? লিমন নিরীহ কলেজ ছাত্র। সে সন্ত্রাসী কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িত
নয়। তার পায়ে র্যাব সদস্যরা অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করে হত্যা প্রচেষ্টা
চালায়। সুষ্ঠু বিচারের লক্ষ্যে এ মামলা থেকে লিমনকে অব্যাহতি দেওয়ার জন্য
আবেদন করেন তার আইনজীবীরা।
লিমনের আইনজীবী নাসির উদ্দিন কবির
বলেন, র্যাবের ছয় সদস্যের বিরুদ্ধে লিমনের মা হেনোয়ারা বেগমের দায়ের করা
লিমন হত্যা প্রচেষ্টা মামলা থেকে র্যাব সদস্যদের অব্যহতি চেয়ে পুলিশের
চুড়ান্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজি আবেদন খারিজের বিরুদ্ধে ঝালকাঠির জেলা
ও দায়রা জজ আদালতে করা রিভিশনের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১৩ আগস্ট।
অস্ত্র মামলা এবং রিভিশনের মামলার ঘটনার তারিখ, সময় ও স্থান একই হওয়ায়
রিভিশন শুনানির পর অস্ত্র মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানি করার জন্য আবেদন
করেছি। আদালত আবেদন মঞ্জুর করেছেন।’
রায় ঘোষণার পর আদালত
চত্বরে লিমন ও তার মা হেনোয়ারা বেগম কান্নাজড়ির কণ্ঠে এই সংবাদদাতাকে
জানান, লিমনের সুষ্ঠু জীবনযাপন ব্যহত হচ্ছে। এমনিতে পঙ্গু, তার উপরে কানের
তীব্র ব্যথা নিয়ে সে খুব অসুবিধায় দিনযাপন করছে। এ সময় তিনি সদস্যদের হাতে
তার নিরাপরাধ ছেলেকে গুলি করে আবার মিথ্যা মামলায় অভিযোগ গঠন করায় আল্লাহর
কাছে বিচার দাবি করেন। পরিবারের সবাই আসামি হওয়ায় তাদের স্বাভাবিক জীবনযাপন
নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন বলে জানান হেনোয়ারা বেগম।
২০১১
সালের ২৩ মার্চ ঝালকাঠির রাজাপুর উপেজলার সাতুরিয়া গ্রামে র্যাবের গুলিতে
একটি পা হারান কলেজছাত্র লিমন হোসেন। এ ঘটনার পর র্যাব-৮ এর তৎকালীন
উপসহকারী পরিচালক (ডিএডি) লুৎফর রহমান বাদি হয়ে লিমনসহ একটিতে সাত ও
অন্যটিতে আটজনের নামে দুটি মামলা করেন রাজাপুর থানায়। একটি অস্ত্র আইনে,
অপরটি সরকারি কাজে বাধাদানের অভিযোগে।
অন্যদিকে, লিমনকে হত্যা চেষ্টার অভিযোগে তার মায়ের করা মামলার কার্যক্রম ঝালকাঠি আদালতে চলছে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন