M

<< WELLCOME TO DASAR KHOBOR >> পাকিস্তানের নারীদের দেয়া হচ্ছে যৌন শিক্ষা >> সাভারে পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে একজন নিহত >> মিয়ানমারে প্রধানমন্ত্রীকে লাল গালিচা সংবর্ধনা >> মিরপুরে মিল্কভিটা বস্তিতে আগুন >> ভারতকে হারিয়ে ফাইনালের পথে পাকিস্তান>> দৌলতপুরে সরকারী গাছ কেটে আত্মসাতের চেষ্টা করেছে সরকারী দলের নেতা >>রাহুল গান্ধীকে চুমু খাওয়ায় স্ত্রীকে পুড়িয়ে হত্যা >> মেহেরপুরের পাঁচ গুণীজনকে সম্মাননা প্রদান >> পুনরায় নির্বাচনের দাবিতে কক্সবাজারে হরতাল চলছে >> এশিয়া কাপে আজ যুদ্ধ ভারত ও পাকিস্তানের >> পলাতক ২ জঙ্গি ধরতে গাইবান্ধায় গোয়েন্দাজাল >> সেনাবাহিনী নামছে ৫৯ জেলায় >> বাংলাদেশকে হুঁশিয়ারি দিল আল কায়েদা!>>

মঙ্গলবার, ৯ জুলাই, ২০১৩

যৌনতাকে উসকে দিতে চান তানিয়া?

সম্প্রতি সোশাল মিডিয়া বিশেষ করে ফেসবুকে বসলেই নানা সংবাদ, লেখা কিংবা ভিডিও লিংক পাইকিছু মানুষ এসব লিংক শেয়ার করে পাঠক বাড়ানোর জন্যতবে সম্প্রতি তানিয়া হোসেন নামে এক নারীর লিংক পাচ্ছি বিভিন্ন অনলাইন পত্রিকার মাধ্যমেনি নিজেও মাঝে-মধ্যে এসব লিংক শেয়ার করেনকৌতুহলের বিষয় হচ্ছে
তথাকথিত এই লেখিকার লেখার ঢং, শিরোনাম আর তসলিমা নাসরিনের মতো যৌন উদ্দীপক বিষয়গুলো নিয়ে কালচার করাউৎসাহ নিয়ে তার কয়েকটি লেখা পড়ে নিশ্চিত হলাম, যৌন চুলকানিমূলক লেখায় তার আগ্রহ বেশিতার কয়েকটি লেখা এবং ফেসবুকে একাধিক অর্ধখোলা পোষাকে উদোম বক্ষ প্রদর্শনরত তার ছবি পোষ্ট দেখে মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে আসলে কী হতে চান তানিয়া হোসেনতার জন্যই বা যৌনতাকে কেনো পুঁজি করছেন
সম্প্রতি তার বিদেশ সফর নিয়ে সিরিজ লিখেছেন, যার প্রতিটিতেই রয়েছে যৌনাচারের বিষয়প্রথম লেখার শিরোনাম ছিল যোনি কি অক্ষতসেখানে তিনি লিখেছেন, ‘আর ইউ আ ভার্জিন?’ এ প্রশ্নের সম্মুখীন দেশ-বিদেশে অবিবাহিত আমাকে বহুবার হতে হয়েছেশুদ্ধ বাংলায় যদি এ প্রশ্নের অনুবাদ করা হয় তবে তা দাঁড়ায় আপনার যোনি কি অক্ষত?’ ‘ভার্জিনঅথবা অক্ষত যোনি’–এই শব্দের গুরুত্ব বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এখনো বিদ্যমানবাংলাদেশসহ অসংখ্য মুসলিম বিশ্বে এ শব্দের গুরুত্ব অন্যান্য দেশের চেয়ে অপেক্ষাকৃতভাবে একটু বেশি মুসলিম বিশ্ব ব্যতীত অন্যান্য বিশ্বের পুরুষেরা মৌখিকভাবে যদিও বলে থাকেন যে তাদের কাছে এ শব্দের গুরুত্ব তেমন নেই তবে মনের ভেতর অনেকেই ভিন্নমত প্রদর্শন করে থাকেনআবার উন্নত ও অনুন্নত বিশ্বের মাঝেও রয়েছে এ শব্দের গুরুত্বের ব্যবধানযদিও পুরুষশাসিত এ সমাজে পুরুষরা অক্ষত যোনিবা ভার্জিন নারী খোঁজেন আবার তারাই অন্যের অক্ষত যোনিকে যে কোনো মুহূর্তে ক্ষত করতে সদা প্রস্তুত থাকেনকোনো কিছুকে একবার ক্ষত করে আবার কীভাবে তাকে অক্ষতভাবে পাওয়ার আশা করা যায় এটা আমার চিন্তায় আনতে বেশ কষ্ট হয়
পরের লেখার শিরোনাম ছিল, ‘ভালোবাসা না দেহের প্রতি আসক্তি? ছেলেদের ঠিক বুঝি নাএখানে তিনি লিখেছেন, ব্লু মস্কে প্রবেশপথে একজনকে ছবি তুলে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করলে ভদ্রলোক আমার সাথে কথা বলা শুরু করলেনবললেন, যে উনি একজন চিত্রকরপথে বসে ছবি আঁকেনসেদিন ছবি আঁকার সরঞ্জাম কাছে ছিল না বলে আমার ছবি আঁকতে পারেননি, তবে আমাকে চা খাওয়ানতুরস্কের চা সাধারণত ছোট ছোট কাচের গ্লাসে দেওয়া হয় এবং খুবই সুস্বাদুএক কাপ চায়ের মূল্য দুই লিরাএরপর আমার সাথে ভদ্রলোকের অনেক কথোপকথন হয়তার শেষের অংশ খানিকটা এমন
-তুমি কি একা ঘুরতে এসেছ?
-জি
-আমি কি তোমার সাথে আসতে পারি? তোমাকে সব কিছু ঘুরিয়ে দেখাব
-অবশ্যইএতে আমার উপকার হবে
[একটু বিরতির পর]
-তুমি কি বিবাহিত?
-না
- তোমার কি বয়ফ্রেন্ড আছে?
- আছে এবং ইনশাল্লাহ আমরা খুব তাড়াতাড়ি বিয়ে করতে যাচ্ছি
একথা শুনে ভদ্রলোকের বাতি কেমন জানি ধপ করে নিভে গেলকুপি যেমন একটু বাতাস পেলে ধপ করে নিভে যায় ঠিক তেমন করে ওনার বাতিও নিভে গেলআমি কারনটা ঠিক ধরতে পারলাম নাচা শেষে বললাম চলুন যাইভদ্রলোকের আচরন কেমন যেন বিচিত্রভাবে পাল্টে গেল এবং বললেন দুঃখিত আমি তোমার সাথে যেতে পারব নাআমি বৃদ্ধ হয়ে গেছিআমার পিঠে ব্যথাআমি এত পথ হাঁটতে পারব নাতুমি একা যাওআমি একথা শুনে একটু অবাক হলামআমার পুরুষমিত্রের কথা শুনে তার মন কেনও এত খারাপ হল তা ঠিক বুঝতে পারলাম নামাঝে মাঝে আমি না ছেলেদের ঠিক বুঝতে পারি না, আমার সাথে এক মিনিটের পরিচয়েই প্রেমের স্বপ্ন দেখেএত তাড়াতাড়ি ভালোবাসা হয় কীভাবে নাকি শুধু দেহের প্রতি আসক্তি তা বুঝতে পারি না
পরের লেখার শিরোনাম ছিল, ‘বিছানায় নেওয়ার ভাষা সব দেশের পুরুষেরই একসেখানে তিনি লিখেছেন, খেতে খেতে মুজাহদি আমাকে জিজ্ঞাসা করল সেদিন রাতে আমার কি প্ল্যান? আমি বললাম বোসফারাস ট্যুর থেকে এসে ঘুমাবোমুজাহদি চোখ চকচক করে বললো আমার সাথে নাইট ক্লাবে যাবে? আজ থাকো সারারাত আমার সাথে আমার বুক একটু ধ্বক করে উঠলোকেমন জানি কিসের আভাস? বিশ্বভ্রমন একটা জিনিস আমাকে খুব ভালোভাবে শিখিয়েছে এবং সেটা হচ্ছে রহস্যময় নারীদেহের প্রতি পৃথিবীর সব পুরুষই বিচিত্রভাবে আকৃষ্টসে দেহ যে দেশেরই হোক না কেন? বাংলাদেশী অথবা তুর্কী দেহদেহ হলেই হলসে দেহের স্বাদ সব পুরুষই গ্রহন করতে চায়হোক না সে দেহের সাথে এক মিনিটের পরিচয়পুরুষমাত্রই কেন জানি যে কোনও জায়্গায় যে কোনও সময়ে বস্ত্র উন্মোচনে প্রস্তুতবিছানায় নেবার ভাষা সব দেশের পুরুষেরই একভালোবাসা না থাকলেও তাদরে শরীর জাগ্রত হতে সময় লাগে নাআর শরীরে লাল বাতি তো সব সময়ই জ্বালানো থাকে
তার বেশিরভাগ লেখাই ভ্রমণকাহিনীর মতোঅথচ কারণে-অকারণে এখানে তিনি যৌনতা নিয়ে এসেছেনলেখা পড়লে বোঝা যাবে তার বেটপ-ঢাউশ মার্কা শরীরের প্রতি বিশ্বব্যাপী মানুষের কামনার শেষ নেইসিঙ্গাপুরের ভ্রমণকাহিনীতেও এমনই একটি ঘটনা উল্লেখ আছে সেখানে অবশ্য তিনি পতিতাদের সমাজ সেবায় নিয়োজিত বলে উল্লেখ করেছেন সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম দেশে নিষিদ্ধ বিষয়ে মানুষের আগ্রহ থাকে বেশিতানিয়া সেই কৌশল নিয়েই নিজের পাঠক বাড়ানোর চেষ্টা করে যাচ্ছেনঅবাক লাগছে এই তানিয়াই আবার উপদেশ দিয়েছেন তসলিমা নাসরিনকেতসলিমা নাসরিনকে কিছু বলার আছে শিরোনামে লেখায় তিনি লিখেছেন, গত সপ্তাহে তসলিমা নাসরিনের সাম্প্রতিক কালের দুটি লেখা পড়লামপ্রথম লেখাটি্কর শিরোনাম ছিলো হুমায়ূন আহমেদ সম্পর্কিতলেখাটিতে তসলিমা নাসরিন হুমায়ুন আহমেদকে পুরুষতান্রিক সমাজের বাহক বলে আখ্যায়িত করেছেনলেখাটি পড়ে আমার মনে হয়েছে, তসলিমা নাসরিন পুরুষতন্ত্র ও নারীবাদিতা সম্পর্কে একটু ভুল ধারণা পোষণ করেন অথবা দীর্ঘদিন দেশের বাহিরে অবস্থান করার কারণে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে একটু কম অবহিত রয়েছেনলেখার শুরুতেই তিনি বলেছেন, ছেলেবেলায় হুমায়ুন আহমেদ পড়লেও যখন সাহিত্য বুঝতে শিখেছেন তখন তিনি হুমায়ুন আহমেদ পড়া ছেড়ে দিয়েছেন একই সাথে আরো বলেছেন যে যখন তিনি নাটক অথবা সিনেমা বুঝতে শিখেছেন তখন থেকে হুমায়ুন আহমেদ এর নির্মিত নাটক দেখা ছেড়ে দিয়েছেনতসলিমা নাসরিন এর এ রকম মন্তব্যের পেছনে দুটো যুক্তি থাকতে পারেতে
প্রথমত: তিনি হুমায়ুন আহমেদের লেখা পছন্দ করেননি কারণ এতে যৌন-যৌনাঙ্গ ও যোনী”-এ তিনটি শ্বব্দের ব্যবহার অপেক্ষাকৃতভাবে কম
দ্বিতীয়ত: যে সাহিত্য হুমায়ুন আহমেদ তৈরী করে গেছেন সে সাহিত্য তা তসলিমা নাসরিনের মান সম্মত হয়নিতবে তসলিমা নাসরিন কেন হুমায়ুন আহমেদের নাটক দেখতেন না তা আমার বোধগম্য নয়গুটি কয়েক সিনেমা ছাড়া বাংলাদেশে এর চেয়ে মান সম্মত কোনো সিনেমা তৈরী হয়েছে কিনা তা আমার জানা নাইতসলিমা নাসরিন এ কথা স্বীকার করেছেন যে হুমায়ুন আহমেদ পাঠক তৈরী করেছেন
অন্য অংশে লিখেছেন, হয়তবা তসলিমা নাসরিন ঠিক বলছেন এমন একদিন আসবে যখন বিয়ে নামক প্রথার বিরুদ্ধে সবাই মুখ খুলবে এবং এটা উঠে যাবে এবং সমাজবিজ্ঞানীরা হয়ত বলবেন যেপৃথিবীতে একটি যুগ ছিল, সে যুগের নাম অন্ধকার যুগসেই অন্ধকার যুগে একটি প্রথা দীর্ঘদীর্ঘকাল টিকে ছিল, প্রথাটির নাম বিয়ে, এসব বোঝাতে গিয়ে পুরুষতন্ত্রের প্রসঙ্গ উঠবে, তখন নিশ্চয়ই ভবিষ্যতের সেই সব মানুষের গা কেঁপে উঠবে বীভৎস একটা সমাজ কল্পনা করে।-এটা হতে পারে সত্যি তবে ইউটোপিয়া? নাডিসটোপিয়া তা সময় বলে দেবেতবে এসব অনেক ছোট ব্যপারবিয়ে, যৌন, যৌন চাহিদা, জরায়ুর স্বাধীনতা-সমাজে এছাড়া অনেক বিষয় আছেতসলিমা নাসরিনের মতন একজন বড় লেখক সে সব দিকগুলো তুলে ধরে জাতিকে আলোর দিকে নিয়ে যাবেন বলেই আমার বিশ্বাসপ্রায় দেড় যুগের মতো তিনি স্বেচ্ছায় নির্বাসনেনিজের কাজের জন্যই আজ তসলিমা নাসরিন নির্বাসনেভালো, গঠনশীল কাজের মাধ্যমেই ক্ষণজন্মা এই লেখক আমাদের মাঝে ফিরে আসবেন-এটাই আমাদের প্রত্যাশাএই যদি হয় তার ভাষ্য তাহলে তার প্রতিটি লেখায় যৌনতা এনে কী হতে চান তানিয়া-এ প্রশ্নের উত্তর এখনও মেলাতে পারিনি

কোন মন্তব্য নেই:

Popular Posts