ঐশী নিজেই তার মা-বাবাকে ছুরি দিয়ে আঘাত করে খুন করে বলে জানিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ। রোববার বেলা দেড়টার দিকে গোয়েন্দা পুলিশের জয়েন্ট কমিশনার মনিরুল ইসলাম প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান। তিনি জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঐশী মা-বাবাকে খুন করার কথা স্বীকার করেছে। তাকে সহায়তা করেছে কাজের মেয়ে ও তার বন্ধুরা। মনিরুল ইসলাম জানান, বন্ধুদের সঙ্গে অবাধ মেলামেশায় বাধা দেয়ার ক্ষিপ্ত হয়ে ঐশী নিজেই তার মা-বাবাকে হত্যা করে। এতে কাজের মেয়ে ও তার বন্ধুদেরও সহযোগিতা রয়েছে। এ ঘটনায় আমরা ঐশী রহমান, কাজের ময়ে সুমি বেগম ও ঐশীর বন্ধু মিজানুর রহমান রনিকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে কোর্টে নিয়ে যাচ্ছি।
তিনি আরও জানান, বুধবার দিবাগত রাত ২টার দিকে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তবে কতদিন আগে পরিকল্পনা হয়, হত্যাকাণ্ডে কতজন জড়িত ছিল সে বিষয়ে এখনও আমরা নিশ্চিত নই। তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই পুরো ঘটনা জানা যাবে।
মনিরুল জানান, ঐশী বেপরোয়া হয়ে গিয়েছিল, পড়ালেখা করতো না। এ কারণে মা-বাবা বন্ধুদের সঙ্গে মেলামেশায় বাধা দিত। তার মোবাইল কেড়ে নেয়া হয়েছিল। তাকে কোথাও একা যেতে দেয়া হতো না। মা-বাবা তার সঙ্গে সঙ্গেই থাকতেন। এ কারণে মা-বাবার ওপর তার ক্ষোভ ছিল। ওই ক্ষোভ থেকেই ঐশী নিজেই ছুরি দিয়ে মা-বাবাকে হত্যা করে।
জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আরও দু’একজনকে আটক করা হয়েছে। প্রয়োজনে আরও কয়েকজনকে আটক করা হবে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে বিস্তারিত বলা যাচ্ছে না বলে জানান মনিরুল ইসলাম।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর চামেলীবাগের (বাসা নম্বর ২, বিল্ডিং-চামেলী, ৬ তলা, ফ্ল্যাট বি-৫) নিজ বাসা থেকে পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) ইন্সপেক্টর মাহফুজুর রহমান (৪৫) ও তার স্ত্রী স্বপ্না রহমানের (৪২) মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
মা-বাবা খুন হওয়ার পর রহস্যজনকভাবে পালিয়েছিল তাদের মেয়ে ঐশী রহমান (১৭)। তবে শনিবার দুপুর দেড়টার দিকে পল্টন থানায় এসে সে নিজের পরিচয় দিয়ে স্বেচ্ছায় ধরা দেয়।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন