খুনোখুনি কোনো নতুন ঘটনা নয়। প্রতিদিনই দেশে খুন হয়। এর আগে মোহাম্মদপুরে আয়শা নামে এক মহিলা তার সন্তানকে হত্যা করে। মহিলা মানসিকভাবে অসুস্থ ছিল। যাকে সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, ‘সাইকো কিলার’।গত শুক্রবার রাতে ঢাকায় নিজ ফ্ল্যাটে পুলিশ কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান এবং তার স্ত্রী স্বপ্না রহমানের মৃত্যু নাড়া দিয়েছে গোটা দেশকে। ঐশী পুলিশের কাছে স্বীকারও করেছে এই খুনের পরিকল্পনাকারীদের মধ্যে তিনিই অন্যতম। সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, ষোলো বছর বয়সী ঐশীও ‘সাইকো কিলার’। পাশাপাশি ঐশী মাদকাসক্ত বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এই বয়সে বিপথে যাওয়ার জন্য এই
মাদককেই দায়ী করছে পুলিশ। কিন্তু হেসে খেলে বাড়ি মাতিয়ে রাখার বয়সে কেন
খুনের মতো ঘটনায় জড়িয়েছে এই কিশোরী?
জানতে চাইলে সমাজবিজ্ঞানী ও
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সাদেকা হালিম বলেন, কিশোর বয়সে মাদকের
হাতছানি বড়ই বিপদজ্জনক। এর কারণেই জীবনের এই সময়টাতে অপরাধে জড়িয়ে
পড়ছে মানুষ। অনেকেই এর ফলে মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাদেরকে বলা হয়
‘সাইকো কিলার’।
সাদেকা হালিম বলেন, সন্তানরা অল্প বয়সে মাদকাসক্ত
হচ্ছে অন্যদের দ্বারা। যারা মাদক ছড়াচ্ছে তাদের মূলে আঘাত করতে হবে। তা না
হলে সমাজ ভেঙে পড়বে’। কিশোরদের মনস্তাত্ত্বিক চাহিদাপূরণ স্বজনদের সঙ্গে
সরাসরি মেলামেশা বাড়ানো, তাদের সমস্যা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা, ভুলগুলো
শুধরে নেয়ার চেষ্টা এবং নিয়মিত কাউন্সেলিংয়ের পরামর্শ দিয়েছেন এই
সমাজবিজ্ঞানী।
পুলিশ জানায়, ঐশী অনেক আগ থেকেই মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে।
তার বেশকিছু বয়ফ্রেন্ড রয়েছে। তাদের সঙ্গে নিয়ে সে ইয়াবা সেবন ও
ইচ্ছামতো চলাফেরা করতো। এনিয়ে পরিবারের সঙ্গে প্রায়েই ঝগড়া হতো। তবে
বাবা-মা তাকে উশৃঙ্খল জীবন থেকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করে। চেষ্টা করেও
ব্যর্থ হয় তারা। সর্বশেষ নেশাকে না ছাড়তে না পেরে বন্ধুদের নিয়ে
বাবা-মাকেই খুন করে ঐশী।
ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান বলেন, পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঐশী তার একাধিক বয়ফ্রেন্ড থাকার কথা স্বীকার করেছে। বয়ফ্রেন্ডদের সঙ্গে অবাধ মেলামেশার বিষয়টি মেনে নিতে পারেনি তার বাবা-মা। এ কারণেই ক্ষুব্ধ হয়ে বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে বাবা-মাকে খুন করার পরিকল্পনা করে ঐশী।
ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান বলেন, পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঐশী তার একাধিক বয়ফ্রেন্ড থাকার কথা স্বীকার করেছে। বয়ফ্রেন্ডদের সঙ্গে অবাধ মেলামেশার বিষয়টি মেনে নিতে পারেনি তার বাবা-মা। এ কারণেই ক্ষুব্ধ হয়ে বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে বাবা-মাকে খুন করার পরিকল্পনা করে ঐশী।
জানা গেছে, এসব
কিছু নিয়ে বাবা-মার সঙ্গে ঐশীর একাধিকবার ঝগড়া হয়েছে। অন্ধকার জগৎ থেকে
ফেরাতে করণীয় নিয়ে মাহফুজুর রহমান ও স্বপ্না রহমান নিকট আত্মীয়দের সঙ্গে
বৈঠক করেছে। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রমজান মাস থেকেই ঐশীর চলাফেরায়
নজরদারি বাড়ানো হয়। বাসার দাঁড়োয়ানকে বলে দেওয়া হয় যেন অনুমতি ছাড়া
বাইরে ঐশীকে যেতে দেওয়া না হয়।
মাহফুজুরের শ্যালক রবিউল আলম জানান, বেশ কয়েকমাস আগ থেকেই ঐশীর লাইফ স্টাইল নিয়ে ওর বাবা-মা বেশ চিন্তিত হয়ে পড়ে। ঐশী মেয়ে মানুষ। সে গভীর রাত করে বাসায় ফিরতো। এনিয়ে বাসায় আমাদের সঙ্গে ওকে নিয়ে বৈঠকও হয়েছে। ফলে আমরা পরামর্শ দিয়েছি তার চলাফেরায় যাতে নজরদারি করা হয়। কিন্তু তাতে বাধা দেওয়ায় কাল হলো। তবে আমরা যেটা বুঝেছি ঐশী ইদানিং মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে শাহজাহানপুরের বাসিন্দা রবিউল বলেন, শুক্রবার ভোরে স্বপ্নার ভগ্নিপতি ইফতেখারুল আলম তাকে ফোন করে মাহফুজুরের বাসায় যেতে বলেন। তিনি সেখানে গিয়ে দরজা ভেতর থেকে বন্ধ পান (ইন্টারলক)। মাহফুজুরের মুঠোফোনও ছিল বন্ধ। পরে স্বপ্নার মুঠোফোনে ফোন করলে ঐশী ধরে জানায়, তার বাবা-মা রাজশাহী গেছে। সে ঐহী ও গৃহকর্মীকে নিয়ে কাকরাইলে এক বান্ধবীর বাসায় আছে।
মাহফুজুরের শ্যালক রবিউল আলম জানান, বেশ কয়েকমাস আগ থেকেই ঐশীর লাইফ স্টাইল নিয়ে ওর বাবা-মা বেশ চিন্তিত হয়ে পড়ে। ঐশী মেয়ে মানুষ। সে গভীর রাত করে বাসায় ফিরতো। এনিয়ে বাসায় আমাদের সঙ্গে ওকে নিয়ে বৈঠকও হয়েছে। ফলে আমরা পরামর্শ দিয়েছি তার চলাফেরায় যাতে নজরদারি করা হয়। কিন্তু তাতে বাধা দেওয়ায় কাল হলো। তবে আমরা যেটা বুঝেছি ঐশী ইদানিং মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে শাহজাহানপুরের বাসিন্দা রবিউল বলেন, শুক্রবার ভোরে স্বপ্নার ভগ্নিপতি ইফতেখারুল আলম তাকে ফোন করে মাহফুজুরের বাসায় যেতে বলেন। তিনি সেখানে গিয়ে দরজা ভেতর থেকে বন্ধ পান (ইন্টারলক)। মাহফুজুরের মুঠোফোনও ছিল বন্ধ। পরে স্বপ্নার মুঠোফোনে ফোন করলে ঐশী ধরে জানায়, তার বাবা-মা রাজশাহী গেছে। সে ঐহী ও গৃহকর্মীকে নিয়ে কাকরাইলে এক বান্ধবীর বাসায় আছে।
তিনি
বলেন, ঐশীকে তাদের বাসায় আসতে বললে সে গড়িমসি করে। পরে সে রিকশায় করে
ঐহীকে বাসায় পাঠায়। ঐহী জানায়, বৃহস্পতিবার সকালে ঐশী তাকে ঘুম থেকে
তুলে বলে, বাবা-মা রাগ করে বাইরে গেছে। খালুর বাসায় যাওয়ার কথা বলে তাকে ও
সুমিকে নিয়ে ঐশী বাসা থেকে বের হয়।
উত্তরার বাসিন্দা স্বপ্নার ভগ্নিপতি ইফতেখারুল বলেন, বৃহস্পতিবার রাত দুইটার দিকে ঐশী তার মায়ের মুঠোফোন থেকে ফোন করে তাঁর বাসার ঠিকানা জানতে চায়। সে জানায়, মা রাগ করে রাজশাহী গেছেন। তাঁকে আনতে গেছেন বাবা। তারা কাকরাইলে এক বান্ধবীর বাসায় আছে। তারা তাঁর (ইফতেখারুল) বাসায় আসতে চায়। তিনি বলেন, ঐশীর কথায় সন্দেহ হলে তিনি রবিউলকে ফোন করে মাহফুজুরের বাসায় পাঠান। তবে সম্প্রতি ঐশীর লাইফ স্টাইল নিয়ে বেশ চিন্তিত হয়ে পরে তার বাবা মা। তাকে তার অন্ধকার জগৎ ফেরানোর চেষ্টাই কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ওই বাড়ির তত্ত্বাবধায়ক আমজাদ আলী বলেন, ঐশী প্রায়ই রাতে বাসায় ফিরতো। এ নিয়ে তার বাবা-মা ভীষণ ক্ষুব্ধ ছিল। ঐশীর সঙ্গে তার অনিয়ন্ত্রিত জীবন-যাপন নিয়ে বেশ কয়েকবার ঝগড়াও হয়েছে। সর্বশেষ রমজানে ইন্সপেক্টর মেয়েকে বাইরে যেতে তার অনুমতি কথা আামদের বলে দেয়। যাতে সে ইচ্ছাই করলেই বাইরে যেতে না পারে।
উত্তরার বাসিন্দা স্বপ্নার ভগ্নিপতি ইফতেখারুল বলেন, বৃহস্পতিবার রাত দুইটার দিকে ঐশী তার মায়ের মুঠোফোন থেকে ফোন করে তাঁর বাসার ঠিকানা জানতে চায়। সে জানায়, মা রাগ করে রাজশাহী গেছেন। তাঁকে আনতে গেছেন বাবা। তারা কাকরাইলে এক বান্ধবীর বাসায় আছে। তারা তাঁর (ইফতেখারুল) বাসায় আসতে চায়। তিনি বলেন, ঐশীর কথায় সন্দেহ হলে তিনি রবিউলকে ফোন করে মাহফুজুরের বাসায় পাঠান। তবে সম্প্রতি ঐশীর লাইফ স্টাইল নিয়ে বেশ চিন্তিত হয়ে পরে তার বাবা মা। তাকে তার অন্ধকার জগৎ ফেরানোর চেষ্টাই কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ওই বাড়ির তত্ত্বাবধায়ক আমজাদ আলী বলেন, ঐশী প্রায়ই রাতে বাসায় ফিরতো। এ নিয়ে তার বাবা-মা ভীষণ ক্ষুব্ধ ছিল। ঐশীর সঙ্গে তার অনিয়ন্ত্রিত জীবন-যাপন নিয়ে বেশ কয়েকবার ঝগড়াও হয়েছে। সর্বশেষ রমজানে ইন্সপেক্টর মেয়েকে বাইরে যেতে তার অনুমতি কথা আামদের বলে দেয়। যাতে সে ইচ্ছাই করলেই বাইরে যেতে না পারে।
তিনি বলেন, গত বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে ঐহী ও
গৃহকর্মীকে নিয়ে অটোরিকশা ডেকে তড়িঘড়ি চলে যায়। সঙ্গে ছিল দুটি ব্যাগ।
জানতে চাইলে ঐশী জানায়, মিরপুরে খালার বাসায় যাচ্ছে। বাড়িতে অনুমতি
ছাড়া কাউকে যেন ঢুকতে না দেয়া হয়। বুধবারের পর অপরিচিত লোক মাহফুজুরের
বাসায় যায়নি।
পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) পরিদর্শক মাহফুজুর রহমান
(৪৯) ও তার স্ত্রী স্বপ্না রহমানের (৪১) লাশ শুক্রবার বাসার দরজা ভেঙে
বাথরুম থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। ‘ও’ লেভেল পড়ুয়া ঐশী ও গৃহকর্মী মোসাম্মৎ
সুমি (১১) ঘটনার পর থেকে নিখোঁজ ছিল।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন