খালেদা জিয়া বলেন, ‘দুই দিনের মধ্যে আলোচনার পথ শুরু না করলে ২৭ অক্টোবর ভোর ৬টা থেকে ২৯ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সারা দেশে সর্বাত্মক হরতাল পালন করা হবে। এ হলো, ১৮ দলের প্রাথমিক কর্মসূচি। এরপরও সরকার কিছু না করলে আরো কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে।’ সরকারি কর্মকর্ত-কর্মচারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘২৭ তারিখ থেকে এ সরকারের মেয়াদ শেষ। এরপরই সরকার অবৈধ। তাই এ সরকারের আদেশ মানবেন না।’
উল্লেখ্য , গতকাল বৃহস্পতিবার শিক্ষক-কর্মচারী সমাবেশে খালেদা জিয়া বলেছিলেন, ২৫ অক্টোবর থেকে এ সরকার অবৈধ। অবশ্য সংবিধান অনুযায়ী, ২৪ জানুয়ারি এ সংসদের মেয়াদ শেষ। এর আগে ৯০ দিনের মধ্যে অথবা মেয়াদ শেষ হওয়ার কারণে সংসদ ভেঙে যাওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। যেহেতু সংবিধান অনুযায়ী, সরকারের মেয়াদ সংসদের প্রথম অধিবেশন থেকে পাঁচ বছর গণনা করা হয়। সে হিসাবে, সংসদ থাকা অবস্থায় ২৭ অক্টোবর থেকে ২৪ জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে হবে।
খালেদা জিয়া তার বক্তব্যের শুরুতেই অভিযোগ করেন, ১৮ দলের সমাবেশ ঠেকাতে সরকার নিজেই অবরোধ করেছে। গাড়ি বন্ধ করেছে, সারা দেশে ধরপাকড় ও তল্লাশি চালিয়ে ও গণগ্রেপ্তার করে নেতাকর্মীদের হয়রানি করেছে। আওয়ামী লীগকে উদ্দেশ করে বেগম খালেদা জিয়া বলেন, ‘আপনারা ভোট ছিনতাইয়ের অপচেষ্টা করে দিয়েছেন। জামালপুরের ডিসিকে দিয়ে নৌকা মার্কায় ভোট চাইয়ে এ অপচেষ্টা শুরু করেছেন।’ এসময় তিনি সংবাদপত্রে এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন জনতার সামনে তুলে ধরেন। খালেদা জিয়া বলেন, ‘আমরা গত পাঁচ বছর শান্ত ছিলাম। কিন্তু এ অপচেষ্টা রোধে আমরা এখন প্রতিরোধ গড়ে তুলবো।’ তিনি বলেন, ‘এ পাঁচ বছরে সরকারের উন্নয়ন হলো হলমার্ক, ডেসটিনি আর ব্যাংক থেকে অর্থলুট। আমাদের দেশের সবচেয়ে বড় ব্যাংক সোনালী ব্যাংকের যে ক্ষতি করেছে তা আগামী ৩০৯ বছরেও পূরণ করা সম্ভব নয়।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে বেগম খালেদা জিয়া বলেন, ‘পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিধান রেখে প্রধানমন্ত্রী যে গর্ত খুড়েছেন। তাই সংবিধান থেকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিধান বাতিল করে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থায় ফিরে না গেলে আগামীতে আপনিই সেই গর্তে পড়বেন।’ খালেদা জিয়া বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী সর্বদলীয় সরকারের প্রস্তাব দিয়েছেন। আমরাও নির্দলীয় সরকারের প্রস্তাব দিয়েছি। তাই আসুন আলোচনায় বসি। সমাধানের পথ বেরিয়ে আসবে। আমি যে প্রস্তাব দিয়েছি তাতে সংবিধানের বেশি সংশোধন করতে হবে না। এখন নির্বাচন ছাড়া কোনো পথ নেই।’ তিনি নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করে বলেন, ‘আরপিও সংশোধন করে একদলীয় নির্বাচন জনগণ মানবে না। নির্বাচন কমিশন নির্দলীয় সরকার ছাড়া নির্বাচন করলে তার পরিণতি ভালো হবে না।’ খালেদা জিয়া বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের সরকার ছিল না। তারা ছিল আওয়ামী লীগের সরকার। তাই এরা শুধু আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের পকেটের উন্নয়ন করেছে। ফলে তারা আজ জনগণ থেকে বিছিন্ন হয়েছে এখন প্রশাসনের উপর ভারসা করেছে। জনগণের উপর তাদের কোনো ভরসা নেই।’
আওয়ামী লীগকে উদ্দেশ্য করে বেগম খালেদা জিয়া বলেন, ‘আপনারা যতোই প্রশাসনের উপর নির্ভর করেন কাজ হবে না। জানগণের দাবির মুখে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে বাধ্য হবেন।’ এর আগে শুক্রবার বিকেল ৪টায় সমাবেশস্থলে আসেন বেগম খালেদা জিয়া। তিনি সোহরাওয়ার্দী উদ্যান প্রাঙ্গণে পৌঁছলে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা স্লোগান ও করতালি দিয়ে খালেদা জিয়াকে স্বাগত জানায়। তারা শিবিরি, শিবির শিবির…… বলে মুহুর্মূহ স্লোগান দিতে থাকে। খালেদা জিয়া সমাবেশের মঞ্চে উঠেই উপস্থিত নেতাকর্মীর উদ্দেশে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা গ্রহণ করেন। নেতাকর্মীরাও বেগম জিয়াকে করতালি দিয়ে শুভেচ্ছ জানান। তবে এ সময় বিএনপির তেমন স্লোগান মঞ্চে এসে পৌঁছেনি। নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের দাবিতে এ সমাবেশ। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাদেক হোসেন খোকা। দুপুর সোয়া ২টায় কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে সমাবেশ শুরু হয়।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন