M

<< WELLCOME TO DASAR KHOBOR >> পাকিস্তানের নারীদের দেয়া হচ্ছে যৌন শিক্ষা >> সাভারে পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে একজন নিহত >> মিয়ানমারে প্রধানমন্ত্রীকে লাল গালিচা সংবর্ধনা >> মিরপুরে মিল্কভিটা বস্তিতে আগুন >> ভারতকে হারিয়ে ফাইনালের পথে পাকিস্তান>> দৌলতপুরে সরকারী গাছ কেটে আত্মসাতের চেষ্টা করেছে সরকারী দলের নেতা >>রাহুল গান্ধীকে চুমু খাওয়ায় স্ত্রীকে পুড়িয়ে হত্যা >> মেহেরপুরের পাঁচ গুণীজনকে সম্মাননা প্রদান >> পুনরায় নির্বাচনের দাবিতে কক্সবাজারে হরতাল চলছে >> এশিয়া কাপে আজ যুদ্ধ ভারত ও পাকিস্তানের >> পলাতক ২ জঙ্গি ধরতে গাইবান্ধায় গোয়েন্দাজাল >> সেনাবাহিনী নামছে ৫৯ জেলায় >> বাংলাদেশকে হুঁশিয়ারি দিল আল কায়েদা!>>

শুক্রবার, ২৫ অক্টোবর, ২০১৩

সংকুচিত হয়ে আসছে বাঁকখালী নদী দুই তীরের জমি দখল করে গড়ে তোলা হচ্ছে স্থাপনা:

কালাম আজাদ, ২৪ অক্টোবর, কক্সবাজার::: সংকুচিত হয়ে আসছে কক্সবাজারের বাঁকখালী নদী। তিন যুগেরও বেশী সময় ধরে বাঁকখালী নদীতে ড্রেজিং না করার কারণে নাব্যতা হ্রাস পাচ্ছে। পাশাপাশি নদী ভরাট হয়ে যাওয়ার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে এক শ্রেণীর ভূমিদস্যু জেলার প্রধান এ নদী দখল করে গড়ে
তুলছে স্থাপনা। অভিযোগ রয়েছে, নদীর দুই তীরে প্রায় তিন হাজার একর জমি দখল হয়ে গেছে, যার বর্তমান বাজার মূল্য ৮০০ কোটি টাকারও বেশি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে পরিবেশ-প্রতিবেশ ধ্বংসের পাশাপাশি কমে যাচ্ছে মৎস্যসম্পদ। ব্যাহত হচ্ছে নৌ-চলাচল। নদীটি অস্থিত্ব সংকটে পড়লেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না প্রশাসন। ইতিপূর্বে শহরের পরিবেশবাদী বিভিন্ন সংগঠন বাঁকখালী নদীর কিনারায় মানববন্ধন ও শহরের বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ সমাবেশ এবং জেলা প্রশাসক বরাবরে স্মারকলিপির মাধ্যমে নদীটি ড্রেজিং ও দখলমুক্ত করে বাঁকখালী নদীর হারানো জৌলুস প্রাণ প্রবাহ ফিরিয়ে আনার দাবী জানান।
জেলার প্রধান এ নদীটি ১০০ কিলোমিটারের বেশি দীর্ঘ হলেও দখল প্রক্রিয়া চলছে শহর ও শহরতলির ১৬ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে। নদীর চর ও তীর দখল করে তৈরি করা হয়েছে চিংড়িঘের, ডকইয়ার্ড, ময়দা ও বরফকল। অনেকে নদী ভরাট করে তৈরি করেছেন বসতবাড়ি ।
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, নদীর খুরশকুল অংশের প্রায় ৪০ একর জমি দখল করে চিংড়িঘের করেছেন বশির আহমদ নামের এক ব্যক্তি। তার পাশে প্রায় ২০ একর জায়গা দখল করেছেন মো. সোবহান। এছাড়া টেকপাড়ার আবদুল্লাহ খান ৮০, আবু হানিফ ১০, জাহাঙ্গীর কাশেম ১০ ও পেশকারপাড়ার আবদুল খালেকের দখলে রয়েছে ৩২ একর। পাশাপাশি বঙ্গোপসাগরের মোহনা নুনিয়ারছড়া থেকে সাত কিলোমিটার দূরে খরুলিয়াবাজার পর্যন্ত নদীর দুই তীরে মুজিবুর রহমান, নুর আহমদ কোম্পানী প্রকাশ নুরু কোম্পানী, গিয়াস উদ্দিন জিকু, মনির আহমদ, মাস্টার আবদুর রহিম, মফিজুর রহমান, বশির আহমদ, মুজিব মেম্বারসহ আট শতাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তির দখলে রয়েছে অন্তত তিন হাজার একর জমি।
কক্সবাজার বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি আবু মোর্শেদ চৌধুরী খোকা বলেন, আগে ঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের সংকেত দেয়া হলে গভীর সাগর থেকে কয়েক হাজার মাছ ধরা ট্রলার এ নদীতে আশ্রয় নিত। এখন নদীর গতিপথ সংকুচিত হওয়ায় ১০০-এর বেশি ট্রলার ঢুকতে পারে না। এছাড়া নদীতে মত্স্যসম্পদও দিন দিন কমে যাচ্ছে। তার পরও প্রশাসন জেলার প্রধান এ নদী রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নিচ্ছে না।
তবে জেলা প্রশাসক মো. র”হুল আমিন জানান, শিগগিরই দখলদারদের উচ্ছেদ করা হবে। তিনি বলেন, বেশ কয়েকজন দখলদারের বির”দ্ধে মামলা হয়েছে। দখলদারদের উচ্ছেদ করে দ্রুত নদী খননের কাজ শুর” করা হবে।
পরিবেশ অধিদফতরের কর্মকর্তারা বলছেন, বাঁকখালী নদীর পানি মারাত্মক দূষণের শিকার। নদীর মোহনায় দূষণের মাত্রা অস্বাভাবিক। অধিদফতরের সাম্প্রতিক মনিটরিংয়ে এ ভয়াবহ অবস্থা ধরা পড়েছে। নদীর তীরে তামাক চাষ, ডকইয়ার্ড স্থাপন ও নদীতে বর্জ্য ফেলার কারণে এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।
কক্সবাজার সোসাইটির সভাপতি কমরেড গিয়াস উদ্দিন বলেন, নদীর তীর দখলের জন্য শহরের ময়লা-আবর্জনা ফেলে পরিকল্পিতভাবে নদীর তলদেশ ভরাট করা হচ্ছে। এতে পরিবেশ-প্রতিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে।
সম্প্রতি বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতির (বেলা) একটি প্রতিনিধি দল বাঁকখালী নদীর প্রায় ছয় কিলোমিটার ঘুরে দেখে। দলের প্রধান ও বেলার চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রধান আনোয়ার”ল ইসলাম চৌধুরী বলেন, নদীর বুক ও দুই তীর দখল করে প্রায় এক হাজার স্থাপনা তৈরি হয়েছে। শহরের বর্জ্য ফেলা হচ্ছে নদীতে। এতে পরিবেশ-প্রতিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে।
কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র সরওয়ার কামাল বলেন, নদী খননের চেষ্টা থাকলেও অর্থের অভাবে তা সম্ভব হচ্ছে না। আর অবৈধ দখলদার উচ্ছেদে জেলা প্রশাসনের সহযোগিতা দরকার।

কোন মন্তব্য নেই:

Popular Posts