সত্যিকারের ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথই দেখলো এবারের এশিয়া কাপ।
চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী এ দুই দলের লড়াইয়ে উত্থান-পতনও কম ছিল না। শেষ পর্যন্ত
স্নায়ুক্ষয়ী এই ম্যাচে জয় পেল পাকিস্তান। শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে ভারতকে ১
উইকেটে হারিয়ে এশিয়া কাপের ফাইনালে পথে এগিয়ে গেল বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।
পাকিস্তান তিন খেলায় জয় পেয়েছে দু’টিতে। অপরদিকে ভারত বাংলাদেশের বিপক্ষে
জয় পেলেও শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের কাছে পরাজিত হয়েছে। পাকিস্তানের খেলা
বাকি রয়েছে বাংলাদেশের বিপক্ষে। আর ভারতের খেলা বাকি আফগানিস্তানের
বিপক্ষে। দুই খেলার দু’টিতে জিতে ফাইনালের অন্যতম দাবিদার শ্রীলঙ্কা।
পাকিস্তানের স্কোর তখন ২৩৫/৬। খেলা বাকি ১০ বল। জয়ের জন্য প্রয়োজন ১১
রান। তখন পাকিস্তান শিবিরে আঘাত হানেন ভারতীয় পেসার বিনয় কুমার। ২৩৫ রানে
উমর গুল ২৩৬ রানে মোহাম্মদ তালহাকে ফিরিয়ে দেন বিনয় কুমার। নিমিষে
পাকিস্তানের স্কোর দাঁড়ায় ২৩৬/৮।
ক্রিজে তখনো রয়েছেন অলরাউন্ডার শহিদ আফ্রিদি। এরপর আফ্রিদির সাথে যোগ
দেন সাঈদ আজমল। শেষ ওভারে পাকিস্তানের জয়ের জন্য প্রয়োজন ১০ রান। চিন্তিত
ভারত অধিনায়ক বিরাট কোহলি শেষ ওভার করার জন্য বল তুলে দেন রবিচন্দ্রন
অশ্বিনের হাতে। প্রথম বলেই সাঈদ আজমলকে বোল্ড করে দেন রবিচন্দ্রন অশ্বিন।
শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে ক্রিজে আসেন পেসার জুনায়েদ খান। অশ্বিনের করা
দ্বিতীয় বলটি স্কোয়ার লেগে ঠেলে দিয়েই একটি রান নেন জুনায়েদ। স্ট্রাইকে
আসেন অলরাউন্ডার শহিদ আফ্রিদি। অশ্বিনের করা তৃতীয় বলটি ডিপ এক্সট্রা
কাভারের উপর দিয়ে ছক্কা হাঁকালে শেষ তিন বলে পাকিস্তানের জয়ের জন্য প্রয়োজন
পড়ে মাত্র ৩ রান। চতুর্থ বলটি আফ্রিদি লং-অনের উপর দিয়ে ছক্কা হাঁকিয়ে ২
বল বাকি থাকতেই দলের জন্য নিশ্চিত করেন।
আফ্রিদি ১৮ বলে দু’টি চার ও তিনটি ছক্কার সাহায্যে ৩৪ রানে অপরাজিত থাকেন। জুনায়েদ খান অপরাজিত থাকেন ১ রানে।
২৪৬ রানে জয়ের লক্ষ্যে খেলতে নেমে পাকিস্তানের দুই ওপেনার শারজিল খান
আহমেদ শেহজাদ ৭১ রানের পার্টনারশিপ গড়ে দারুণ সূচনা এনে দেন। শারজিল খান ২৫
রান করে আউট হন। অপর ওপেনার আহমেদ শেহজাদ করেন ৪২ রান। এরপর অধিনায়ক
মিসবাহ ১ ও উমর আকমল ৪ রান করে ফিরে গেলেও ওয়ানডাউনে নামা মোহাম্মদ হাফিজ
শোয়েব মাকসুদকে সাথে নিয়ে পঞ্চম উইকেট জুটিতে ৮৭ রানের পার্টনারশিপ গড়েন।
মোহাম্মদ হাফিজের ব্যাট থেকে আসে সর্বোচ্চ ৭৫ রান। তার ১১৭ বলের ইনিংসে
তিনটি চার ও দু’টি বিশাল ছক্কার মার রয়েছে। শোয়েব মাকসুদ করেন ৩৪ রান।
ভারতীয় বোলারদের মধ্যে রবিচন্দ্রন অশ্বিন তিনটি, বিনয় কুমার ও অমিত মিশ্রা নেন দু’টি করে উইকেট।
এর আগে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ভারত ওপেনার রোহিত শর্মা,
আম্বাতি রয়োদু ও রবীন্দ্র জাদেজার অর্ধশতকের ওপর ভর করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে
২৪৫ রান স্কোরবোর্ডে জমা করে। রোহিত শর্মা ৫৬, আম্বাতি রয়োদু ৫৮ রান করে
আউট হলেও রবীন্দ্র জাদেজা ৫২ রানে অপরাজিত থাকেন। অধিনায়ক বিরাট কোহলি এদিন
৫ রানের বেশি এগুতে পারেননি। এছাড়া শিখর ধাওয়ান ১০, আজিঙ্কা রাহানে ও
দিনেশ কার্তিক দু’জনেই করেন ২৩ রান করে।
পাকিস্তানি বোলারদের মধ্যে স্পিনার সাঈদ আজমল তিনটি, মোহাম্মদ হাফিজ ও মোহাম্মদ তালহা দু’টি করে এবং উমর গুল নেন এক উইকেট।
ম্যাচসেরা হন পাকিস্তানের মোহাম্মদ হাফিজ।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন